পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন জন কেরি

ঢাকা : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি শিগগিরই বাংলাদেশে সফরে আসতে পারেন। চলতি মাসের মাঝামাঝি তিনি জাপান সফরে যাবেন। এ সুযোগে যাত্রাবিরতিতে বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে তিনি ওয়াশিংটনে গত ২০ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা সফর করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জন কেরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তিনি বর্তমান সরকারকে আরো শক্তিশালী করতে চান।

ওয়াশিংটনের একটি সূত্র জানায়, জন কেরির বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে এলে তিনি বাংলাদেশও সফর করবেন। এর বাইরে এশিয়া অঞ্চলে এলে সেই সময় বাংলাদেশে যাত্রাবিরতির মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সফর আয়োজনের সম্ভাবনাও তাঁর বিবেচনায় রয়েছে।

শিগগির তিনি ঢাকায় এসে সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অভিজিৎ হত্যার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। জন কেরি চলতি মাসে আসছেন কি না জানতে চাইলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র মনিকা এল শাই গতকাল শনিবার শীর্ষ নিউজকে বলেন, এমনটি তাঁর জানা নেই।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে নিরপরাধ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা বা রাজনৈতিক অভিব্যক্তি দমন করার কৌশলগুলো কোনভাবেই সহ্য করা যায় না।’

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ফরেন প্রেস সেন্টারে ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, মৌলিক সমস্যার সমাধান বাংলাদেশকেই করতে হবে।

গত বুধবার ওয়াশিংটনে নিশা বিসওয়াল পররাষ্ট্র দফতরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. ওসমান ফারুকের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র শীর্ষ নিউজকে জানান, একান্ত বৈঠকগুলো সম্পর্কে তাঁরা সাধারণত কোনো মন্তব্য করেন না। তবে তিনি এটি নিশ্চিত করতে পারেন যে নিশা বিসওয়াল বাংলাদেশের সহিংসতায় উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অব্যাহত সহিংসতার মধ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিৎ রায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা আহত হন। ওই দম্পতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ কড়া ভাষায় ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলে, এটি শুধু ব্যক্তির ওপরই নয়, বরং বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত সর্বজনীন নীতি এবং মুক্তচিন্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতার গর্বের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত ব্যুরোর একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ এসে এ দেশের তদন্তকারীদের কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে। অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাফিদা আহমেদ বন্যাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে।

অভিজিৎ হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যরা দুই দফায় ওই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে চিঠি দিয়েছেন। প্রথম দফায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ছয়জন কংগ্রেস সদস্য অভিজিৎ হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে লিখেছেন, বাংলাদেশে অন্য অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি ও লেখকদের জন্য হুমকিকে যেন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরো সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশে গত দুই মাস ধরে বিএনপি জোটের কর্মসূচির সময় সহিংসতায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত বুধবার ১১ জন কংগ্রেস সদস্য বাংলাদেশ বিষয়ে উদ্যোগী হতে জন কেরির প্রতি আহ্বান জানান। ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে সহিংসতাকে কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যে কারণে দ্বিমত রয়েছে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তার প্রকাশ ঘটানো যেতে পারে।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন জন কেরি

আপডেট টাইম : ০৪:২৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০১৫

ঢাকা : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি শিগগিরই বাংলাদেশে সফরে আসতে পারেন। চলতি মাসের মাঝামাঝি তিনি জাপান সফরে যাবেন। এ সুযোগে যাত্রাবিরতিতে বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে তিনি ওয়াশিংটনে গত ২০ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা সফর করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জন কেরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তিনি বর্তমান সরকারকে আরো শক্তিশালী করতে চান।

ওয়াশিংটনের একটি সূত্র জানায়, জন কেরির বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে এলে তিনি বাংলাদেশও সফর করবেন। এর বাইরে এশিয়া অঞ্চলে এলে সেই সময় বাংলাদেশে যাত্রাবিরতির মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সফর আয়োজনের সম্ভাবনাও তাঁর বিবেচনায় রয়েছে।

শিগগির তিনি ঢাকায় এসে সহিংসতা বন্ধ ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অভিজিৎ হত্যার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। জন কেরি চলতি মাসে আসছেন কি না জানতে চাইলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র মনিকা এল শাই গতকাল শনিবার শীর্ষ নিউজকে বলেন, এমনটি তাঁর জানা নেই।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে নিরপরাধ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা বা রাজনৈতিক অভিব্যক্তি দমন করার কৌশলগুলো কোনভাবেই সহ্য করা যায় না।’

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ফরেন প্রেস সেন্টারে ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, মৌলিক সমস্যার সমাধান বাংলাদেশকেই করতে হবে।

গত বুধবার ওয়াশিংটনে নিশা বিসওয়াল পররাষ্ট্র দফতরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. ওসমান ফারুকের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র শীর্ষ নিউজকে জানান, একান্ত বৈঠকগুলো সম্পর্কে তাঁরা সাধারণত কোনো মন্তব্য করেন না। তবে তিনি এটি নিশ্চিত করতে পারেন যে নিশা বিসওয়াল বাংলাদেশের সহিংসতায় উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অব্যাহত সহিংসতার মধ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিৎ রায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা আহত হন। ওই দম্পতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ কড়া ভাষায় ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলে, এটি শুধু ব্যক্তির ওপরই নয়, বরং বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত সর্বজনীন নীতি এবং মুক্তচিন্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতার গর্বের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত ব্যুরোর একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ এসে এ দেশের তদন্তকারীদের কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে। অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাফিদা আহমেদ বন্যাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে।

অভিজিৎ হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যরা দুই দফায় ওই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে চিঠি দিয়েছেন। প্রথম দফায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ছয়জন কংগ্রেস সদস্য অভিজিৎ হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে লিখেছেন, বাংলাদেশে অন্য অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি ও লেখকদের জন্য হুমকিকে যেন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরো সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশে গত দুই মাস ধরে বিএনপি জোটের কর্মসূচির সময় সহিংসতায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত বুধবার ১১ জন কংগ্রেস সদস্য বাংলাদেশ বিষয়ে উদ্যোগী হতে জন কেরির প্রতি আহ্বান জানান। ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে সহিংসতাকে কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যে কারণে দ্বিমত রয়েছে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তার প্রকাশ ঘটানো যেতে পারে।’