
নিজস্ব সংবাদদাতা:
সীমান্তে গুলি করে হত্যা ও জোরপূর্বক পুশইন বন্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ককোয়াবাড়ী সীমান্তে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে ভারতের পক্ষে আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের অধীন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার গোপালপুর বিএসএফ সেক্টরের কমান্ডার (ডিআইজি) সংকটা প্রসাদ নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়েত হাসান।
বৈঠকে উভয় দেশের সেক্টর পর্যায়ের বিএসএফের তিনজন এবং বিজিবির সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অংশ নেন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৮৬৮ নম্বর প্রধান পিলারের ৩ নম্বর উপপিলার থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ব্রিটিশ সড়ক এলাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, হত্যা, পুশইন, চোরাচালান ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, সীমান্তে হত্যা, গুলি ও জোরপূর্বক পুশইনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুশইনের ঘটনা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করার পাশাপাশি সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম প্রতিহত করার বিষয়ে বিএসএফকে অনুরোধ জানানো হয়।
এ ছাড়া চোরাচালানসহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে দুই বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সীমান্তে হত্যা প্রসঙ্গে বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চোরাকারবারিরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যার ঘটনা ঘটে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠকে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে উভয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, সীমান্তসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করে।
মো:রশিদুল ইসলাম 

























