পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

সুস্বাদু হাজারী গুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুস্বাদু হাজারী গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা গ্রামের গাছিরা।

শুধু খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরি হলেও দেশের অন্যন্য জেলার চেয়ে এ গুড়ের চাহিদা একটু বেশিই। এ গুড় শুধু দেশে নয় দেশের বাইরেও রয়েছে ব্যপক চাহিদা।

প্রতি কেজি গুড় ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানান গাছিরা।

গাছি পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, প্রায় দেড়শত বছর আগ থেকেই ঝিটকা গ্রামে হাজারী গুড় তৈরি হয়ে আসছে। এই গুড় প্রথম তৈরি করেন মিনহাজউদ্দিন হাজারী। তার নামেই এই গুড়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘হাজারী গুড়’।

হাজারী গুড়ের একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দু’হাতে গুড়ো করে ফুঁ দিলে তা ছাতুর মত উড়ে যায়।

এই গুড় উৎপাদনের সঙ্গে গাছি, কুমার, কামার, জ্বালানি ব্যবসায়ী, পরিবহনের জন্য ট্রাক মালিক, ভ্যান চালকসহ অনেকের পরিবার এ গুড় উৎপাদনের আয় দিয়ে চলছে ।

উৎপাদন সম্পর্কে গাছিরা জানায়; ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই গুড় উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য সময়। আগের দিন বিকেলে গাছ কেটে হাড়ি বেঁধে দেয়া হয়। পরদিন ভোরে (সূর্য উঠার আগে) রস সংগ্রহস করে পরিষ্কার করে ছেঁকে মাটির তৈরি (জালা) পাত্রে চুলায় (বাইনে) জ্বালিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় হাজারী গুড়।

হাজারী গুড় সম্পর্কে গাছি মুকুল হাজারী জানান, ‘তার দাদা ও বাবা হাজারি গুড় তৈরি করতো। বংশ পরম্পরায় তিনি ও তার চাচা এখনো গাছ কেটে রস দিয়ে গুড় তৈরি করেন।

হাজারী আরো জানান, শীতের সময়ই তারা গাছ কাটেন। বছরের বাকি সময় তারা ক্ষেতে কাজ করেন।

শীতের সময় হাজারি গুড় বিক্রি করে প্রতিদিন দুই থেকে হাজার তিন হাজার টাকা আয় করেন তারা।

ঝিটকা এলাকায় প্রায় পঞ্চাশটি পরিবারের লোক এ পেশায় জড়িত বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের রানীকে ও এই গুড় উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলে মানিকগঞ্জে জনশ্রুতি রয়েছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

সুস্বাদু হাজারী গুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা

আপডেট টাইম : ০৪:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৪

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুস্বাদু হাজারী গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা গ্রামের গাছিরা।

শুধু খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরি হলেও দেশের অন্যন্য জেলার চেয়ে এ গুড়ের চাহিদা একটু বেশিই। এ গুড় শুধু দেশে নয় দেশের বাইরেও রয়েছে ব্যপক চাহিদা।

প্রতি কেজি গুড় ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানান গাছিরা।

গাছি পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, প্রায় দেড়শত বছর আগ থেকেই ঝিটকা গ্রামে হাজারী গুড় তৈরি হয়ে আসছে। এই গুড় প্রথম তৈরি করেন মিনহাজউদ্দিন হাজারী। তার নামেই এই গুড়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘হাজারী গুড়’।

হাজারী গুড়ের একটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দু’হাতে গুড়ো করে ফুঁ দিলে তা ছাতুর মত উড়ে যায়।

এই গুড় উৎপাদনের সঙ্গে গাছি, কুমার, কামার, জ্বালানি ব্যবসায়ী, পরিবহনের জন্য ট্রাক মালিক, ভ্যান চালকসহ অনেকের পরিবার এ গুড় উৎপাদনের আয় দিয়ে চলছে ।

উৎপাদন সম্পর্কে গাছিরা জানায়; ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই গুড় উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য সময়। আগের দিন বিকেলে গাছ কেটে হাড়ি বেঁধে দেয়া হয়। পরদিন ভোরে (সূর্য উঠার আগে) রস সংগ্রহস করে পরিষ্কার করে ছেঁকে মাটির তৈরি (জালা) পাত্রে চুলায় (বাইনে) জ্বালিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় হাজারী গুড়।

হাজারী গুড় সম্পর্কে গাছি মুকুল হাজারী জানান, ‘তার দাদা ও বাবা হাজারি গুড় তৈরি করতো। বংশ পরম্পরায় তিনি ও তার চাচা এখনো গাছ কেটে রস দিয়ে গুড় তৈরি করেন।

হাজারী আরো জানান, শীতের সময়ই তারা গাছ কাটেন। বছরের বাকি সময় তারা ক্ষেতে কাজ করেন।

শীতের সময় হাজারি গুড় বিক্রি করে প্রতিদিন দুই থেকে হাজার তিন হাজার টাকা আয় করেন তারা।

ঝিটকা এলাকায় প্রায় পঞ্চাশটি পরিবারের লোক এ পেশায় জড়িত বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের রানীকে ও এই গুড় উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলে মানিকগঞ্জে জনশ্রুতি রয়েছে।