পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম Logo পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফকে লাঠি-সোটা দিয়ে পেটালো বাংলাদেশীরা Logo পাটগ্রামে রংপুর ও পাটগ্রাম সোনালী অতীতের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় বিআরটিএ’র রোড শো Logo ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

সৎমায়ের দুধমাখানো ভাত খেয়ে শিশুর মৃত্যু : অনেক প্রশ্ন

ফারুক আহম্মেদ সুজন : সৎমায়ের দুধমাখানো ভাত খেয়ে ফারজানা নামের পাঁচ বছরের এক শিশু নিহত হওয়ার দুইমাস পর লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিহত শিশুটির বাবা জাকির হোসেনের অভিযোগ তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজ মেয়ে ফারজানাকে দুধের সঙ্গে বিষ মেশানো ভাত খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর আগেই শাহানাজ জাকিরের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করেন। মেয়ে মারা যাওয়ার পর শাহানাজকে আপোসে তার জীবন থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন জাকির। এরপরও শাহানাজ বাসা থেকে না যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মেয়েকে হত্যার অভিযোগ করেছেন জাকির।

নিহত শিশুটির বাবা জাকির হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজসহ তার পরিবার ও স্বজনদের পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করার দুইমাস পর ম্যাজিস্ট্রেট রিহানুল হকের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে পল্লবী থানা। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পল্লবীর কালশি কবরস্থান থেকে ফারজানার লাশ উত্তোলন করে পুলিশ।

নিহত শিশুটির বাবা জাকির হোসেন বলেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর আমার প্রথম স্ত্রী তামান্না তিন সন্তান নিয়ে রাজধানীর পল্লবীর বাসায় বেড়াতে আসে। সেখানে আমি আমার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজকে নিয়ে বসবাস করি। ওইদিন রাতেই শাহানাজ ফারজানাকে দুধমাখানো ভাত খেতে দেয়। এসময় মেয়েটি ভাত তিতা লাগছে বললেও শাহানাজ পুনরায় ভাতে চিনি মিশিয়ে খেতে দেয়। এরপরই মেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পরের দিন ১৮ সেপ্টেম্বর তাকে পল্লবীর কালশি কবরস্থানে দাফন করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এলাকার চাপে পড়ে কোনো মামলা করিনি। তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে আমার জীবন থেকে চলে যেতে বলি। কিন্তু সে উল্টো গত ২৬ সেপ্টেম্বরে আমাকে যৌতুক মামলায় গ্রেফতার করায়। আমি কারাগারে থাকায় মেয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করা বিলম্ব হওয়ার আরো একটি বড় কারণ।’

এদিকে জাকিরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে ফারজানাকে হত্যার কথা অস্বীকার করে জানান, জাকির ঠিক মতো ভরণ-পোষণ না দিয়ে, উল্টো তার কাছে যৌতুক দাবি করে। সে বিভিন্ন সময় আমাকে নির্যাতন করেছে। তাই বাধ্য হয়ে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর বরগুনা জেলা আদালতে জাকিরের বিরুদ্ধে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করি। যা ফারজানা মারা যাওয়ার অনেক আগেই করা হয়েছে।

তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর এবছরের ১৭ সেপ্টেম্বরে জাকিরের প্রথম স্ত্রী তামান্না তিন সন্তান নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে আসেন। এসময় মেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। মেয়ে মারা যাওয়ার পর জাকির প্রথম স্ত্রী এবং তার সন্তান নিয়ে দেশে যায়। মৌখিকভাবে জাকির সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে যায়। এরপর পূর্বে দায়েরকৃত শাহানাজের যৌতুক মামলায় ২৬ সেপ্টেম্বর জাকিরকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। গত ৬ অক্টোবর জাকির জেল থেকে বের হয়ে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে ঢাকা সিএমএম কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহানাজ, তার বাবা, এক বোন এবং দুই বোনের স্বামীকে আসামি করা হয়েছে।

শাহানাজ আরো জানান, যৌতুক মামলাটি তুলে নেয়ার জন্যই জাকির পরিকল্পিতভাবে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছে। আমি ফারজানাকে হত্যা করেনি।

তবে শাহানাজের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকির। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করার পরও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। কারণ সে আপোস করেছিল। কিন্তু সে কথা রাখেনি।’

জাকির আরো বলেন, ‘প্রথম সংসারে আমার তিন সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে সুমাইয়া (১৫), ছেলে সাব্বির (৮) এবং সবার ছোট মেয়ে ফারজানা। তাদের প্রথম সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু ছোট মেয়ে ফারজানাকে দুধ-ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে শাহানাজ হত্যা করেছে। দ্বিতীয় বিয়ে করাই আমার ভুল হয়েছে। তার সব অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছিলাম তারপরও সে মামলা করে আমাকে জেলে নিয়েছে। আপোস হলেও সে আপোসের শর্ত মানেনি।’

জাকিরের দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, জাকির তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজের বিরুদ্ধে মেয়েকে হত্যার অভিযোগ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত গত বৃহস্পতিবার নিহত ফারজানার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলনের নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মামলায় জাকির অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজ তার মেয়ে ফারজানাকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভাতের সঙ্গে বিষ বা নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে দেয়। ভাত খাওয়ার পর মেয়ে কান্না করে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিতে তাকে বিছনায় মৃত অবস্থায় দেখে তার প্রথম স্ত্রী তামান্না।

এসআই বলেন, ‘ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে শিশুটির কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ

সৎমায়ের দুধমাখানো ভাত খেয়ে শিশুর মৃত্যু : অনেক প্রশ্ন

আপডেট টাইম : ০৩:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪

ফারুক আহম্মেদ সুজন : সৎমায়ের দুধমাখানো ভাত খেয়ে ফারজানা নামের পাঁচ বছরের এক শিশু নিহত হওয়ার দুইমাস পর লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিহত শিশুটির বাবা জাকির হোসেনের অভিযোগ তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজ মেয়ে ফারজানাকে দুধের সঙ্গে বিষ মেশানো ভাত খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর আগেই শাহানাজ জাকিরের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করেন। মেয়ে মারা যাওয়ার পর শাহানাজকে আপোসে তার জীবন থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন জাকির। এরপরও শাহানাজ বাসা থেকে না যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মেয়েকে হত্যার অভিযোগ করেছেন জাকির।

নিহত শিশুটির বাবা জাকির হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজসহ তার পরিবার ও স্বজনদের পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করার দুইমাস পর ম্যাজিস্ট্রেট রিহানুল হকের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে পল্লবী থানা। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পল্লবীর কালশি কবরস্থান থেকে ফারজানার লাশ উত্তোলন করে পুলিশ।

নিহত শিশুটির বাবা জাকির হোসেন বলেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর আমার প্রথম স্ত্রী তামান্না তিন সন্তান নিয়ে রাজধানীর পল্লবীর বাসায় বেড়াতে আসে। সেখানে আমি আমার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজকে নিয়ে বসবাস করি। ওইদিন রাতেই শাহানাজ ফারজানাকে দুধমাখানো ভাত খেতে দেয়। এসময় মেয়েটি ভাত তিতা লাগছে বললেও শাহানাজ পুনরায় ভাতে চিনি মিশিয়ে খেতে দেয়। এরপরই মেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পরের দিন ১৮ সেপ্টেম্বর তাকে পল্লবীর কালশি কবরস্থানে দাফন করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এলাকার চাপে পড়ে কোনো মামলা করিনি। তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে আমার জীবন থেকে চলে যেতে বলি। কিন্তু সে উল্টো গত ২৬ সেপ্টেম্বরে আমাকে যৌতুক মামলায় গ্রেফতার করায়। আমি কারাগারে থাকায় মেয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করা বিলম্ব হওয়ার আরো একটি বড় কারণ।’

এদিকে জাকিরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে ফারজানাকে হত্যার কথা অস্বীকার করে জানান, জাকির ঠিক মতো ভরণ-পোষণ না দিয়ে, উল্টো তার কাছে যৌতুক দাবি করে। সে বিভিন্ন সময় আমাকে নির্যাতন করেছে। তাই বাধ্য হয়ে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর বরগুনা জেলা আদালতে জাকিরের বিরুদ্ধে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করি। যা ফারজানা মারা যাওয়ার অনেক আগেই করা হয়েছে।

তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর এবছরের ১৭ সেপ্টেম্বরে জাকিরের প্রথম স্ত্রী তামান্না তিন সন্তান নিয়ে ঢাকায় বেড়াতে আসেন। এসময় মেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। মেয়ে মারা যাওয়ার পর জাকির প্রথম স্ত্রী এবং তার সন্তান নিয়ে দেশে যায়। মৌখিকভাবে জাকির সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে যায়। এরপর পূর্বে দায়েরকৃত শাহানাজের যৌতুক মামলায় ২৬ সেপ্টেম্বর জাকিরকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। গত ৬ অক্টোবর জাকির জেল থেকে বের হয়ে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে ঢাকা সিএমএম কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহানাজ, তার বাবা, এক বোন এবং দুই বোনের স্বামীকে আসামি করা হয়েছে।

শাহানাজ আরো জানান, যৌতুক মামলাটি তুলে নেয়ার জন্যই জাকির পরিকল্পিতভাবে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছে। আমি ফারজানাকে হত্যা করেনি।

তবে শাহানাজের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকির। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করার পরও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। কারণ সে আপোস করেছিল। কিন্তু সে কথা রাখেনি।’

জাকির আরো বলেন, ‘প্রথম সংসারে আমার তিন সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে সুমাইয়া (১৫), ছেলে সাব্বির (৮) এবং সবার ছোট মেয়ে ফারজানা। তাদের প্রথম সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু ছোট মেয়ে ফারজানাকে দুধ-ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে শাহানাজ হত্যা করেছে। দ্বিতীয় বিয়ে করাই আমার ভুল হয়েছে। তার সব অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছিলাম তারপরও সে মামলা করে আমাকে জেলে নিয়েছে। আপোস হলেও সে আপোসের শর্ত মানেনি।’

জাকিরের দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, জাকির তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজের বিরুদ্ধে মেয়েকে হত্যার অভিযোগ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত গত বৃহস্পতিবার নিহত ফারজানার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলনের নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মামলায় জাকির অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানাজ তার মেয়ে ফারজানাকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভাতের সঙ্গে বিষ বা নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে দেয়। ভাত খাওয়ার পর মেয়ে কান্না করে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিতে তাকে বিছনায় মৃত অবস্থায় দেখে তার প্রথম স্ত্রী তামান্না।

এসআই বলেন, ‘ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে শিশুটির কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল।