পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় Logo লালমনিরহাটে নিরাপদ সড়ক গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত Logo লালমনিরহাট মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর সম্ভাবনায়- পরিদর্শনে দুই মন্ত্রী Logo বুড়িমারীতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে এলাকাবাসী Logo হাতীবান্ধা সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে এস্কাপ সিরাপ ও গাঁজা জব্দ Logo লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু Logo চলন্ত বাসে জন্ম, আজীবন বিনামূল্যে যাতায়াতের উপহার পেল শিশু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় চুইঝাল জব্দ Logo পাটগ্রামে ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৭ Logo হেলাল হোসেন কবির : সাংবাদিকতা ও কাব্যচর্চার দ্বৈত পরিচয়

সাংবিধানিক পদেও হস্তক্ষেপ করতে পারবে সংসদ

10616076_1471035609811921_392173896516342496_n
ফারুক আহম্মেদ সুজন:বিচারপতিদের অভিশংসন নিয়ে অস্পষ্টতায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানেও সংসদ হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

অভিশংসন প্রথা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হলে শুধু সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিই নন, নির্বাচন কমিশনের মতো আরো কয়েকটি সাংবিধানিক ও আধা-সাংবিধানিক সংস্থার সদস্যদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে চলে যাবে।

বিচারপতি ছাড়া বাকিরা হলেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ সব কমিশনার ও প্রধান তথ্য কমিশনারসহ সব কমিশনার; সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক।

কারণ, সংবিধানের ১১৮(৫) অনুচ্ছেদ বলছে, যে উপায়ে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি অপসারিত হবেন, ‘সেইরূপ কারণ ও পদ্ধতি ব্যতীত’ কোনো কমিশনার অপসারিত হবেন না। ১২(২) অনুচ্ছেদ একই বাক্য উল্লেখ করে মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং ১৩৯(২) অনুচ্ছেদ বলেছে, একই কারণ ও পদ্ধতি ছাড়া ‘সরকারি কর্মকমিশনের কোনো সভাপতি বা অন্য কোনো সদস্য অপসারিত হবেন না।’

অন্য পদধারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান-সমূহের জন্য প্রযোজ্য আলাদা আইনেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।

তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক পদধারীদের অভিশংসন হয় না। তিনি বলেন, ‘তাদের অভিশংসন করা হয় না। অসদাচরণ বা অসামর্থ্য হলে ওই সদস্যকে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে বলবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবিধানিক পদধারীদের অভিশংসন প্রক্রিয়া আসন্ন সংসদে উত্থাপন করা হবে না। রাষ্ট্রপতি তাদের সরিয়ে দেবেন। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই।’

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর অভিশংসন প্রথা সংবিধানে প্রতিস্থাপন করা হয়। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীতে তা বাতিল করে রাষ্ট্রপতির কাছে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়।

বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সোমবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশোধনী বিলটি পাস হলে ১৯৭২ সালের সংবিধানে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের অনুমোদনের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের যে বিধান ছিল, তাই আবার ফিরে আসবে। পাশাপাশি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারক অপসারণের নিয়মটি বাদ পড়বে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদ অধিবেশন। সেখানে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত বিল পাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

Tag :

পাটগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময়

সাংবিধানিক পদেও হস্তক্ষেপ করতে পারবে সংসদ

আপডেট টাইম : ০৯:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০১৪

10616076_1471035609811921_392173896516342496_n
ফারুক আহম্মেদ সুজন:বিচারপতিদের অভিশংসন নিয়ে অস্পষ্টতায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানেও সংসদ হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

অভিশংসন প্রথা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হলে শুধু সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিই নন, নির্বাচন কমিশনের মতো আরো কয়েকটি সাংবিধানিক ও আধা-সাংবিধানিক সংস্থার সদস্যদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে চলে যাবে।

বিচারপতি ছাড়া বাকিরা হলেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ সব কমিশনার ও প্রধান তথ্য কমিশনারসহ সব কমিশনার; সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক।

কারণ, সংবিধানের ১১৮(৫) অনুচ্ছেদ বলছে, যে উপায়ে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি অপসারিত হবেন, ‘সেইরূপ কারণ ও পদ্ধতি ব্যতীত’ কোনো কমিশনার অপসারিত হবেন না। ১২(২) অনুচ্ছেদ একই বাক্য উল্লেখ করে মহাহিসাব নিরীক্ষক এবং ১৩৯(২) অনুচ্ছেদ বলেছে, একই কারণ ও পদ্ধতি ছাড়া ‘সরকারি কর্মকমিশনের কোনো সভাপতি বা অন্য কোনো সদস্য অপসারিত হবেন না।’

অন্য পদধারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান-সমূহের জন্য প্রযোজ্য আলাদা আইনেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।

তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক পদধারীদের অভিশংসন হয় না। তিনি বলেন, ‘তাদের অভিশংসন করা হয় না। অসদাচরণ বা অসামর্থ্য হলে ওই সদস্যকে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে বলবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবিধানিক পদধারীদের অভিশংসন প্রক্রিয়া আসন্ন সংসদে উত্থাপন করা হবে না। রাষ্ট্রপতি তাদের সরিয়ে দেবেন। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই।’

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর অভিশংসন প্রথা সংবিধানে প্রতিস্থাপন করা হয়। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীতে তা বাতিল করে রাষ্ট্রপতির কাছে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়।

বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সোমবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশোধনী বিলটি পাস হলে ১৯৭২ সালের সংবিধানে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের অনুমোদনের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের যে বিধান ছিল, তাই আবার ফিরে আসবে। পাশাপাশি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারক অপসারণের নিয়মটি বাদ পড়বে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদ অধিবেশন। সেখানে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত বিল পাসের সম্ভাবনা রয়েছে।