অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক Logo মিরপুর বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯ জন দালাল আটক Logo লালমনিরহাটে শিবরাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ

সরকারি টাকায় বিদেশ সফরে যেতে এমপিদের ধরনা

বাংলার খবর২৪.কম ডেস্ক : সরকারি টাকায় বিদেশ সফরের ধরনা দিচ্ছেন এমপিরা। এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ব্যবসায়িক এমপিরা। নতুন এমপিরাও পিছিয়ে নেই। বিদেশ সফরের জন্য তারা নিয়মিত ধরনা দেন স্পিকার, চিফ হুইপ থেকে শুরু করে অন্যান্য হুইপের অফিসে। এমনকি স্পিকারের পিএসের কাছেও অনেক নতুন এমপি নিজেদের বিদেশ সফরের তালিকায় রাখতে আগাম অনুরোধ জানিয়ে রেখেছেন। এ নিয়ে বিব্রত সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, এমপিরা বিদেশ সফর করলেও তারা ফিরে এসে সংসদ উন্নয়নে কার্যকর কোন সুপারিশ বা পরামর্শ দেন না। এমনকি বাইরের দেশের পার্লামেন্টের সঙ্গে আমাদের দেশের সংসদের তুলনা করে কোন বৈঠকও করেন না। আবার কোন কোন কমিটি বিদেশ থেকে ফিরে পরামর্শ বা সুপারিশ তৈরি করলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে এ নিয়ে বিদেশ সফর থেকে ফেরত আসা এমপি বা কমিটিকে কোন ধরনের জবাবদিহি করতে হয় না। তাই এমপিদের বেশির ভাগ বিদেশ সফর এখন পরিণত হয়েছে ‘ভ্রমণে’। ২১শে জুলাই সংসদ সচিবালয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে এমপিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকা- পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে কমিটি। এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কিভাবে কাজ করছেন তা দেখতে কমিটির সদস্য মিশনগুলো পরিদর্শন করতে চায়। এছাড়া, মিশনের সদস্যদের কোন সমস্যা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে এ সুপারিশ করা হয়েছে। নবম সংসদেও ওই কমিটির সদস্যরা বিদেশ সফরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশে মিশন পরিচালিত হচ্ছে। এতে কাজ করছেন সশস্ত্র বাহিনীর ৭ হাজার ৮৩ জন শান্তিরক্ষী। ১৪ই জুলাই লাইব্রেরি কমিটির বৈঠকে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের অজুহাতে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নেন এমপিরা। তাদের লক্ষ্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ভারতসহ কয়েকটি দেশ। তবে অর্থ যোগান কিভাবে হবে তা তারা জানেন না। এ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য এনামুল হক জানান, সংসদ সচিবালয় থেকেও এর অর্থায়ন হতে পারে, আবার ইউএনডিপিসহ কোন দাতা সংস্থার কাছ থেকেও নেয়া যেতে পারে। এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সব এমপিরা সরকারি খরচে এবার সৌদি আরবে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাদের ওই ইচ্ছায় সায় দেয়নি। শেষ পর্যন্ত কমিটির দু’জন এমপিকে সরকারি খরচে সৌদি যাওয়ার ব্যবস্থা করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ওই দুই এমপি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও এমপিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নানা প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে বিদেশ যাওয়ার পাঁয়তারা করেন। বিশেষ করে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ছাড়াও তাদের টার্গেটে থাকে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন। আগে এমপিদের বিদেশ সফর যেতে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হতো। কিন্তু নবম সংসদের প্রথম দিকে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা এডভোকেট আবদুল হামিদ (বর্তমানে প্রেসিডেন্ট) একটি রুলিংয়ের মাধ্যমে ওই রেওয়াজ বন্ধ করেন। ২০১০ সালের ৫ই এপ্রিলে দেয়া রুলিংয়ে তিনি বলেন, আজকে অধিবেশন শেষ হয়ে যাচ্ছে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত আপনাদের কোথাও যেতে হলে কোন ধরনের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে সংসদ অধিবেশন চলাকালে, আসলে ওই সময়েও আপনাদের ঢ়ৎবাবহঃ করা যায় না সত্যিকার অর্থে। তবু সংসদের যে নানাবিধ সঙ্কট সে জন্য তখন যদি অনুমতির ব্যাপারটি থাকে তাহলে মোটামুটি একটি ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। তখনও যদি কারও যাওয়া জরুরি হয় তাহলে অবশ্যই যেতে হবে, অসুস্থ হলে যেতে হবে। সাধারণত যাতে আমাদের সংসদ চলার পথে কোন বিঘ্নের সৃষ্টি না হয় সে জন্য ওই জিনিসটি থাকার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। সুতরাং এখন থেকে আর কোন মাননীয় সদস্য বাইরে গেলে স্পিকারের কাছে অনুমতি চাওয়া বা অনুমতি নিয়ে যেতে হবে, এটা আর লাগবে না। এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন ১০ম সংসদের এমপিরা। মানবজমিন

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

সরকারি টাকায় বিদেশ সফরে যেতে এমপিদের ধরনা

আপডেট টাইম : ০৩:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম ডেস্ক : সরকারি টাকায় বিদেশ সফরের ধরনা দিচ্ছেন এমপিরা। এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ব্যবসায়িক এমপিরা। নতুন এমপিরাও পিছিয়ে নেই। বিদেশ সফরের জন্য তারা নিয়মিত ধরনা দেন স্পিকার, চিফ হুইপ থেকে শুরু করে অন্যান্য হুইপের অফিসে। এমনকি স্পিকারের পিএসের কাছেও অনেক নতুন এমপি নিজেদের বিদেশ সফরের তালিকায় রাখতে আগাম অনুরোধ জানিয়ে রেখেছেন। এ নিয়ে বিব্রত সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, এমপিরা বিদেশ সফর করলেও তারা ফিরে এসে সংসদ উন্নয়নে কার্যকর কোন সুপারিশ বা পরামর্শ দেন না। এমনকি বাইরের দেশের পার্লামেন্টের সঙ্গে আমাদের দেশের সংসদের তুলনা করে কোন বৈঠকও করেন না। আবার কোন কোন কমিটি বিদেশ থেকে ফিরে পরামর্শ বা সুপারিশ তৈরি করলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে এ নিয়ে বিদেশ সফর থেকে ফেরত আসা এমপি বা কমিটিকে কোন ধরনের জবাবদিহি করতে হয় না। তাই এমপিদের বেশির ভাগ বিদেশ সফর এখন পরিণত হয়েছে ‘ভ্রমণে’। ২১শে জুলাই সংসদ সচিবালয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে এমপিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকা- পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে কমিটি। এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়া বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কিভাবে কাজ করছেন তা দেখতে কমিটির সদস্য মিশনগুলো পরিদর্শন করতে চায়। এছাড়া, মিশনের সদস্যদের কোন সমস্যা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে এ সুপারিশ করা হয়েছে। নবম সংসদেও ওই কমিটির সদস্যরা বিদেশ সফরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশে মিশন পরিচালিত হচ্ছে। এতে কাজ করছেন সশস্ত্র বাহিনীর ৭ হাজার ৮৩ জন শান্তিরক্ষী। ১৪ই জুলাই লাইব্রেরি কমিটির বৈঠকে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের অজুহাতে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নেন এমপিরা। তাদের লক্ষ্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ভারতসহ কয়েকটি দেশ। তবে অর্থ যোগান কিভাবে হবে তা তারা জানেন না। এ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য এনামুল হক জানান, সংসদ সচিবালয় থেকেও এর অর্থায়ন হতে পারে, আবার ইউএনডিপিসহ কোন দাতা সংস্থার কাছ থেকেও নেয়া যেতে পারে। এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সব এমপিরা সরকারি খরচে এবার সৌদি আরবে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় তাদের ওই ইচ্ছায় সায় দেয়নি। শেষ পর্যন্ত কমিটির দু’জন এমপিকে সরকারি খরচে সৌদি যাওয়ার ব্যবস্থা করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ওই দুই এমপি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও এমপিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নানা প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে বিদেশ যাওয়ার পাঁয়তারা করেন। বিশেষ করে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ছাড়াও তাদের টার্গেটে থাকে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন। আগে এমপিদের বিদেশ সফর যেতে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হতো। কিন্তু নবম সংসদের প্রথম দিকে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা এডভোকেট আবদুল হামিদ (বর্তমানে প্রেসিডেন্ট) একটি রুলিংয়ের মাধ্যমে ওই রেওয়াজ বন্ধ করেন। ২০১০ সালের ৫ই এপ্রিলে দেয়া রুলিংয়ে তিনি বলেন, আজকে অধিবেশন শেষ হয়ে যাচ্ছে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত আপনাদের কোথাও যেতে হলে কোন ধরনের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে সংসদ অধিবেশন চলাকালে, আসলে ওই সময়েও আপনাদের ঢ়ৎবাবহঃ করা যায় না সত্যিকার অর্থে। তবু সংসদের যে নানাবিধ সঙ্কট সে জন্য তখন যদি অনুমতির ব্যাপারটি থাকে তাহলে মোটামুটি একটি ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। তখনও যদি কারও যাওয়া জরুরি হয় তাহলে অবশ্যই যেতে হবে, অসুস্থ হলে যেতে হবে। সাধারণত যাতে আমাদের সংসদ চলার পথে কোন বিঘ্নের সৃষ্টি না হয় সে জন্য ওই জিনিসটি থাকার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। সুতরাং এখন থেকে আর কোন মাননীয় সদস্য বাইরে গেলে স্পিকারের কাছে অনুমতি চাওয়া বা অনুমতি নিয়ে যেতে হবে, এটা আর লাগবে না। এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন ১০ম সংসদের এমপিরা। মানবজমিন