পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

‘বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থায় জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী’

বাংলার খবর২৪.কম, নিউইয়র্ক :2815_53004 সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও চরম পন্থায় জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।

শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন শেখ হাসিনা।

গাজায় ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ১৯৬৭ পূর্ব সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন এবং স্থায়ী ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের টেকসই সমাধান দাবি করেন তিনি। এসময় তিনি আল কুদুস আল শরীফকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তানি রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানান।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। আমার সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংস চরমপন্থা, উগ্রবাদ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি শূন্য-সহনশীল (Zero tolerance) নীতিতে বিশ্বাসী। প্রতিবেশী বা অন্যদের বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এমন এক সময়ে এখানে সমবেত হয়েছি যখন বৈশ্বিক উন্নয়ন আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। যেহেতু সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে, বিশ্বসম্প্রদায় ২০১৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য একটি সংস্কারমূলক উন্নয়ন এজেন্ডা প্রণয়নের কাজে ব্যস্ত রয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োচিত।

নিরাপত্তা ব্যতীত টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অস্থিতিশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা অবস্থা এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, বিশ্বের যে কোনো স্থানে শান্তি বিঘ্নিত হলে তা গোটা মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

আমাদের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের আত্ম নিয়ন্ত্রণ অধিকারের বৈধ সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সংহতি ঘোষণা করছি।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রগতিশীল এবং উদার চরিত্রকে নস্যাৎ করতে সদা তৎপর। তারা সুযোগ পেলেই ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোমা ও গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে অসংখ্য উদার রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যা করেছে। এসব নৃশংস হামলা আমাকে দেশ থেকে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদর্শিকভাবে সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা নির্মূলের জন্য আমার সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। শাসন ব্যবস্থায় সচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশনকে শক্তিশালী করেছি।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

‘বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থায় জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী’

আপডেট টাইম : ০২:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম, নিউইয়র্ক :2815_53004 সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও চরম পন্থায় জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।

শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। অধিবেশনে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন শেখ হাসিনা।

গাজায় ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ১৯৬৭ পূর্ব সীমানার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন এবং স্থায়ী ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের টেকসই সমাধান দাবি করেন তিনি। এসময় তিনি আল কুদুস আল শরীফকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তানি রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানান।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। আমার সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংস চরমপন্থা, উগ্রবাদ এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি শূন্য-সহনশীল (Zero tolerance) নীতিতে বিশ্বাসী। প্রতিবেশী বা অন্যদের বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এমন এক সময়ে এখানে সমবেত হয়েছি যখন বৈশ্বিক উন্নয়ন আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। যেহেতু সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে, বিশ্বসম্প্রদায় ২০১৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য একটি সংস্কারমূলক উন্নয়ন এজেন্ডা প্রণয়নের কাজে ব্যস্ত রয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োচিত।

নিরাপত্তা ব্যতীত টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অস্থিতিশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা অবস্থা এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, বিশ্বের যে কোনো স্থানে শান্তি বিঘ্নিত হলে তা গোটা মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

আমাদের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের আত্ম নিয়ন্ত্রণ অধিকারের বৈধ সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সংহতি ঘোষণা করছি।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রগতিশীল এবং উদার চরিত্রকে নস্যাৎ করতে সদা তৎপর। তারা সুযোগ পেলেই ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বোমা ও গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে অসংখ্য উদার রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যা করেছে। এসব নৃশংস হামলা আমাকে দেশ থেকে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদর্শিকভাবে সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা নির্মূলের জন্য আমার সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। শাসন ব্যবস্থায় সচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশনকে শক্তিশালী করেছি।