অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন Logo নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক

ঘুস নিয়ে দর কষাকষি দুই রাজস্ব কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

ডেস্ক : কাস্টমস ও এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ মাদারীপুর সার্কেল অফিসের দুই রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

১০ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই রাজস্ব কর্মকর্তা এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দর কষাকষি করছেন। এমনকি চাহিদামতো প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসোহার টাকা চাইছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, কাস্টমস ও এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ মাদারীপুর সার্কেল অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা (সার্কেল-২) রফিকুল ইসলাম ও (সার্কেল-১) মো. ইমরান কবীর অফিস কক্ষে বসে ঘুসের টাকা নিচ্ছেন।

ফাঁস হওয়া ভিডিওর শুরুতে এক ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এইডা কি আনছেন? পরে ৫০০ টাকার কয়েকটি নোট হাতে গুনে পকেটে ভরেন রফিকুল। ’

এর পর রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ওই ব্যবসায়ীকে বলেন, ‘কি যে করেন আপনারা? মানে… মাদারীপুরের লোক এত ধনী, দেশের মধ্যে তৃতীয় ধনী জেলা। আপনারা কেন এমন করেন?’

একপর্যায় ব্যবসায়ীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যা দিছেন আমি এটি নিতে পারব না। ইমরান সাহেবকে কী দেব? আমি কীভাবে বোঝাব? স্যারে তো বকব! আমি এটা নিতে পারব না। এই ৩ (তিন হাজার) আমি নিতে পারব না। বাকিটা কখন দেবেন? আপনারা স্যারকে বলে যান— দেখা করে যান। কারণ তিনি (ইমরান কবীর) আপনার অরিজিনাল স্যার। সেই আপনাকে বাঁচাতে পারব, মারতে পারব। বুঝচ্ছেন!’

শেষ কথায় রফিকুল ইসলাম ওই ব্যবসায়ীকে বলেন, প্রতি মাসে অফিস খরচ এক হাজার টাকা দিয়ে যাবেন। এটা যেন আর না বলা লাগে। কথা যেন নড়চড় না হয়। মাসের ১০ তারিখের মধ্যে টাকা আমার কাছে দিয়ে যাবেন।

ভিডিওটির ৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে পরে দেখা যায় রাজস্ব কর্মকর্তা (সার্কেল-১) মো. ইমরান কবীরকে।

তিনি ওই ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার দোকানের আশপাশে যারা দিচ্ছে ওয়েল অ্যান্ড গুড। আর যারা দিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আপনার নম্বর দিয়ে যান। পরে ওই ব্যবসায়ী এক হাজার টাকা ইমরান কবীরের টেবিলে রাখলে তিনি টাকাটা নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা ওই ব্যবসায়ীর নাম অমিত হাসান। তিনি মাদারীপুর পুরান বাজারের পোশাক ব্যবসায়ী।

জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী বলেন, আমার ছোট পোশাকের দোকান। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভ্যাট দিতে বলেন স্যাররা। পরে অফিসে গেলে তারা এক হাজার টাকা করে ভ্যাট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু শর্ত হলো— প্রতি মাসে অফিসে তিন হাজার টাকা দিতে হবে।

ভিডিও সম্পর্কে রাজস্ব কর্মকর্তা (সার্কেল -১) মো. ইমরান কবীর বলেন, ভিডিওটি আমাদের নয়, এটি সাজানো। এ বিষয় আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।

রাজস্ব কর্মকর্তা (সার্কেল-২) রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যবসায়ী আমার কাছে আসার পর তাকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে বলেছিলাম, তার কাছে কোনো অনৈতিক দাবি করা হয়নি।

ঘুস দাবির ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কথোপকথনগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ।

কাস্টমস ও এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ মাদারীপুর সার্কেল অফিসের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং ডেপুটি কমিশনার মো. এনামুল হক ফোনে বলেন, আপনারা তো আসছিলেন, নিউজ করে দেন। অসুবিধা নেই। বলেই তিনি কল কেটে দেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, দুই রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুসগ্রহণের ভিডিওটি আমি দেখেছি। পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুগান্তর

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন

ঘুস নিয়ে দর কষাকষি দুই রাজস্ব কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট টাইম : ০৩:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২

ডেস্ক : কাস্টমস ও এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ মাদারীপুর সার্কেল অফিসের দুই রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

১০ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই রাজস্ব কর্মকর্তা এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দর কষাকষি করছেন। এমনকি চাহিদামতো প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসোহার টাকা চাইছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, কাস্টমস ও এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ মাদারীপুর সার্কেল অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা (সার্কেল-২) রফিকুল ইসলাম ও (সার্কেল-১) মো. ইমরান কবীর অফিস কক্ষে বসে ঘুসের টাকা নিচ্ছেন।

ফাঁস হওয়া ভিডিওর শুরুতে এক ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এইডা কি আনছেন? পরে ৫০০ টাকার কয়েকটি নোট হাতে গুনে পকেটে ভরেন রফিকুল। ’

এর পর রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ওই ব্যবসায়ীকে বলেন, ‘কি যে করেন আপনারা? মানে… মাদারীপুরের লোক এত ধনী, দেশের মধ্যে তৃতীয় ধনী জেলা। আপনারা কেন এমন করেন?’

একপর্যায় ব্যবসায়ীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যা দিছেন আমি এটি নিতে পারব না। ইমরান সাহেবকে কী দেব? আমি কীভাবে বোঝাব? স্যারে তো বকব! আমি এটা নিতে পারব না। এই ৩ (তিন হাজার) আমি নিতে পারব না। বাকিটা কখন দেবেন? আপনারা স্যারকে বলে যান— দেখা করে যান। কারণ তিনি (ইমরান কবীর) আপনার অরিজিনাল স্যার। সেই আপনাকে বাঁচাতে পারব, মারতে পারব। বুঝচ্ছেন!’

শেষ কথায় রফিকুল ইসলাম ওই ব্যবসায়ীকে বলেন, প্রতি মাসে অফিস খরচ এক হাজার টাকা দিয়ে যাবেন। এটা যেন আর না বলা লাগে। কথা যেন নড়চড় না হয়। মাসের ১০ তারিখের মধ্যে টাকা আমার কাছে দিয়ে যাবেন।

ভিডিওটির ৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে পরে দেখা যায় রাজস্ব কর্মকর্তা (সার্কেল-১) মো. ইমরান কবীরকে।

তিনি ওই ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার দোকানের আশপাশে যারা দিচ্ছে ওয়েল অ্যান্ড গুড। আর যারা দিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আপনার নম্বর দিয়ে যান। পরে ওই ব্যবসায়ী এক হাজার টাকা ইমরান কবীরের টেবিলে রাখলে তিনি টাকাটা নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা ওই ব্যবসায়ীর নাম অমিত হাসান। তিনি মাদারীপুর পুরান বাজারের পোশাক ব্যবসায়ী।

জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী বলেন, আমার ছোট পোশাকের দোকান। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভ্যাট দিতে বলেন স্যাররা। পরে অফিসে গেলে তারা এক হাজার টাকা করে ভ্যাট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু শর্ত হলো— প্রতি মাসে অফিসে তিন হাজার টাকা দিতে হবে।

ভিডিও সম্পর্কে রাজস্ব কর্মকর্তা (সার্কেল -১) মো. ইমরান কবীর বলেন, ভিডিওটি আমাদের নয়, এটি সাজানো। এ বিষয় আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।

রাজস্ব কর্মকর্তা (সার্কেল-২) রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যবসায়ী আমার কাছে আসার পর তাকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে বলেছিলাম, তার কাছে কোনো অনৈতিক দাবি করা হয়নি।

ঘুস দাবির ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কথোপকথনগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ।

কাস্টমস ও এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ মাদারীপুর সার্কেল অফিসের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং ডেপুটি কমিশনার মো. এনামুল হক ফোনে বলেন, আপনারা তো আসছিলেন, নিউজ করে দেন। অসুবিধা নেই। বলেই তিনি কল কেটে দেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, দুই রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুসগ্রহণের ভিডিওটি আমি দেখেছি। পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুগান্তর