অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

এলনিনো এসে গেছে: এপাশ পুড়বে খরায়, বন্যায় ভাসবে ওপাশ

আবহাওয়া বিশ্লেষণের বিশ্বের তিনটি বড় সংস্থা এক যোগে বলছে এলনিনো এসে গেছে। প্রশান্ত মহসাগরের উপরিতলে আবহাওয়া যে রূপ নিয়েছে তা এলনিনো। এবার যা ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলেই আশঙ্কা।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেটেরোলজি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার আর জাপানের মেটেরোলজিকাল এজেন্সি এক যোগে এলনিনোর উপস্থিতির ঘোষণা দিয়েছে। প্রশান্ত মহসাগরের উপরিতলের তাপমাত্রা মেপে, আর বায়ুমণ্ডলে এর প্রভাব পরিমাপ করে তিনটি সংস্থাই বলেছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এলনিনোর প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়েছে।

গ্রীষ্ম-মণ্ডলীয় প্রশান্ত মহসাগরে পানির ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে সমুদ্র-উপরিতলে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, এতে দক্ষিণ আরেরিকায় শুরু হয় প্রচণ্ড বৃষ্টি-বন্যা আর এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার দিকটাতে বয়ে যায় ঝলসে দেওয়ার মতো তপ্ত হাওয়া। পড়ে দীর্ঘ খরার কবলে। এটাই এলনিনো।

স্প্যানিশ শব্দ এলনিনো মানে ‘ছোট্ট বালকটি’। বলা হচ্ছে এলনিনো ফিরে এসেছে। কারণ ২০০৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত এলনিনো ছিলো। এর পরের পাঁচটি বছর ভালোয় ভালোয় কাটলেও এবার আর দেখা মিলছে এলনিনোর।

কি হতে পারে এলনিনোর প্রভাবে? অবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এর প্রভাবকে এক কথায় বড় ধরনের নানামুখী প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলতেই পছন্দ করেন। কারণ এর প্রভাবে খরা-অনাবৃষ্টি যেমন হয় তেমনি হয় অতিবৃষ্টি-বন্যাও। ২০১০ সালের এলনিনোর কথা যারা স্মরণ করতে পারেন তারা জানবেন সেবার সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলোর মধ্যে ছিলো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপিন্স, ইকুয়েডরে ছিলো ভয়াবহ খরা, যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে তীব্র তুষার ঝড়, ব্রাজিল ভুগেছে দাবদাহে আর প্রলংকারী বন্যায় ভেসেছে মেক্সিকো।

এবারের এলনিনোর কারণে বাংলাদেশ-ভারতসহ এশিয়ার কিছু অংশ ও অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র খরা, ইন্দোনেশিয়া-পাপুয়া নিউগিনি আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে আরও শুষ্কতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এবারের খরা শষ্যক্ষেতগুলোকে চৌচির করে দেবে, এতে খাদ্যপণ্যের দাম হবে চড়া, এমনটাই আশঙ্কা আবহাওয়া বিশ্লেষকদের। বৈশ্বিক কৃষি বাজারে যার প্রভাব দেখা যাবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের ওপর যাদের অর্থনীতি নির্ভরশীল তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে যখন খরা অন্যদিকে আটলান্টিকে তখন সৃষ্টি হবে প্রলয়ঙ্কারি হারিকেন, দক্ষিণ আমেরিকায় থাকবে তীব্র বৃষ্টিপাত ‍আর বন্যার হানা যাতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সঙ্গে প্রাণহানির আশঙ্কাও থেকে যায়। আরেকটি আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের এই যে, আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলো যখন বৃষ্টিপাত-বন্যায় ভাসবে উত্তরের রাজ্যগুলো তখন পুড়বে তাপদাহে।

আরও একটু পেছনের ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, ১৯৮২-৮৩ সালে যে এলনিনো হানা দেয় তাতে উপযুপরি খরায় ভোগে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া অব্দি সকল দেশের মানুষ। একই সময় তারা দেখেছে দাবদাহ, যাতে জঙ্গলের পর জঙ্গল পুড়ে ছাই হয়েছে, আর দেখেছে বন্যা, যা ভাসিয়ে নিয়েছে জনপদের পর জনপদ। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিলো ৮ বিলিয়ন ডলারের, আর প্রাণহানি ঘটে দুই হাজারের বেশি মানুষের।

ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিন্সট্রেশন ১৯৯৭-৯৮ এর এলনিনোর ক্ষয়ক্ষতিও রেকর্ড করেছে। সেবার যুক্তরাস্ট্রের ক্ষতি ছিলো ১০ বিলিয়ন ডলারের।

কোন ধরনের ফসল বেশি হুমকিতে? সে প্রশ্নের উত্তরে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের এলনিনো মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পাম-তেল চাষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। বিশ্বে এই তেলের মোট চাহিদার ৮৬ ভাগই যোগান দেয় এই দুই দেশ। ১৯৯৭-৯৮ সালের এলনিনোয় ইন্দোনেশিয়ার ৭.১ ভাগ ও মালয়েশিয়ার ৫.৫ ভাগ পামতেল উৎপাদন কমে যায়।

বাংলাদেশ-ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোতে ধান উৎপাদন হুমকিতে রয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসে বৃষ্টিপাত না হলে ধানের ক্ষেতগুলো হয়ে পড়তে পারে শুষ্ক খরখরা। আর ধান উৎপাদন কমলে তা গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। ভারত ও চীনের সয়াবিন উৎপাদনও রয়েছে একই হুমকিতে। বলা হচ্ছে এলনিনোর প্রভাবে ভারতে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চল শুষ্ক হলে সয়াবিন উৎপাদন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই ফসলটি চাষ শুরু হয় জুন-জুলাইয়ে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সয়াবিন উৎপাদনে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়।

অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ-আমিষযুক্ত গম উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবারের এলনিনোতে এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এই ফসলের জন্য সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। কিন্তু এলনিনো সে বৃষ্টি থামিয়ে রাখবে।

অস্ট্রেলিয়া এলনিনোর প্রভাবে খরা হবে সে এমন আশঙ্কা এখন তীব্র। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হয়ে এ পর্যন্ত ২৬ দফায় ছোট্ট বালকটিরে (এলনিনো) দেখেছে বিশ্ব। তার মধ্যে ১৭ বারই তীব্র খরায় পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির আবহাওয়া ব্যুরো এই তথ্য দিয়ে বলছে, পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কৃষকরা গম, বার্লি আর ক্যানোলা চাষে বিপাকে পড়বে।

এলনিনো যুক্তরাষ্ট্রের এবারের গ্রীষ্মকে কিছুটা বেশিই ঠাণ্ডাময় করে রাখবে। পূর্ব প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকছে একের পর এক হারিকেনের আঘাতের আশঙ্কা আর ওদিকে পশ্চিমে আশঙ্কা টাইফুনের।

কত দিন থাকবে এই দশা? সে প্রশ্ন অবশ্যই আসবে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা বলছে, ২০১৫ সালের শেষভাগে এসে কমে আসতে পারে এলনিনো। কিন্তু আশঙ্কার কথা হচ্ছে তিনটি প্রধান আহবাহওয়া বিশ্লেষণ সংস্থার মধ্যে সর্বসম্মত কোনও বক্তব্য নিশ্চিত করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার বলছে, তাদের হিসেবে ৭০ ভাগ সম্ভাবনাই হচ্ছে, উত্তর গোলার্ধের গোট‍া গ্রীষ্মকাল জুড়ে চলবে এলনিনোর প্রভাব। আর অস্ট্রেলিয়ান ওয়েদার ব্যুরো বলছে, এলনিনো একবার এসে গেলে এ বছরের গোটা সময়টা জুড়েই বিরাজ করবে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

এলনিনো এসে গেছে: এপাশ পুড়বে খরায়, বন্যায় ভাসবে ওপাশ

আপডেট টাইম : ০৮:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০১৫

আবহাওয়া বিশ্লেষণের বিশ্বের তিনটি বড় সংস্থা এক যোগে বলছে এলনিনো এসে গেছে। প্রশান্ত মহসাগরের উপরিতলে আবহাওয়া যে রূপ নিয়েছে তা এলনিনো। এবার যা ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলেই আশঙ্কা।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেটেরোলজি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার আর জাপানের মেটেরোলজিকাল এজেন্সি এক যোগে এলনিনোর উপস্থিতির ঘোষণা দিয়েছে। প্রশান্ত মহসাগরের উপরিতলের তাপমাত্রা মেপে, আর বায়ুমণ্ডলে এর প্রভাব পরিমাপ করে তিনটি সংস্থাই বলেছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এলনিনোর প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়েছে।

গ্রীষ্ম-মণ্ডলীয় প্রশান্ত মহসাগরে পানির ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে সমুদ্র-উপরিতলে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, এতে দক্ষিণ আরেরিকায় শুরু হয় প্রচণ্ড বৃষ্টি-বন্যা আর এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার দিকটাতে বয়ে যায় ঝলসে দেওয়ার মতো তপ্ত হাওয়া। পড়ে দীর্ঘ খরার কবলে। এটাই এলনিনো।

স্প্যানিশ শব্দ এলনিনো মানে ‘ছোট্ট বালকটি’। বলা হচ্ছে এলনিনো ফিরে এসেছে। কারণ ২০০৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত এলনিনো ছিলো। এর পরের পাঁচটি বছর ভালোয় ভালোয় কাটলেও এবার আর দেখা মিলছে এলনিনোর।

কি হতে পারে এলনিনোর প্রভাবে? অবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এর প্রভাবকে এক কথায় বড় ধরনের নানামুখী প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলতেই পছন্দ করেন। কারণ এর প্রভাবে খরা-অনাবৃষ্টি যেমন হয় তেমনি হয় অতিবৃষ্টি-বন্যাও। ২০১০ সালের এলনিনোর কথা যারা স্মরণ করতে পারেন তারা জানবেন সেবার সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলোর মধ্যে ছিলো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপিন্স, ইকুয়েডরে ছিলো ভয়াবহ খরা, যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে তীব্র তুষার ঝড়, ব্রাজিল ভুগেছে দাবদাহে আর প্রলংকারী বন্যায় ভেসেছে মেক্সিকো।

এবারের এলনিনোর কারণে বাংলাদেশ-ভারতসহ এশিয়ার কিছু অংশ ও অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র খরা, ইন্দোনেশিয়া-পাপুয়া নিউগিনি আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে আরও শুষ্কতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এবারের খরা শষ্যক্ষেতগুলোকে চৌচির করে দেবে, এতে খাদ্যপণ্যের দাম হবে চড়া, এমনটাই আশঙ্কা আবহাওয়া বিশ্লেষকদের। বৈশ্বিক কৃষি বাজারে যার প্রভাব দেখা যাবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের ওপর যাদের অর্থনীতি নির্ভরশীল তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে যখন খরা অন্যদিকে আটলান্টিকে তখন সৃষ্টি হবে প্রলয়ঙ্কারি হারিকেন, দক্ষিণ আমেরিকায় থাকবে তীব্র বৃষ্টিপাত ‍আর বন্যার হানা যাতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সঙ্গে প্রাণহানির আশঙ্কাও থেকে যায়। আরেকটি আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের এই যে, আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলো যখন বৃষ্টিপাত-বন্যায় ভাসবে উত্তরের রাজ্যগুলো তখন পুড়বে তাপদাহে।

আরও একটু পেছনের ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, ১৯৮২-৮৩ সালে যে এলনিনো হানা দেয় তাতে উপযুপরি খরায় ভোগে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া অব্দি সকল দেশের মানুষ। একই সময় তারা দেখেছে দাবদাহ, যাতে জঙ্গলের পর জঙ্গল পুড়ে ছাই হয়েছে, আর দেখেছে বন্যা, যা ভাসিয়ে নিয়েছে জনপদের পর জনপদ। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিলো ৮ বিলিয়ন ডলারের, আর প্রাণহানি ঘটে দুই হাজারের বেশি মানুষের।

ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিন্সট্রেশন ১৯৯৭-৯৮ এর এলনিনোর ক্ষয়ক্ষতিও রেকর্ড করেছে। সেবার যুক্তরাস্ট্রের ক্ষতি ছিলো ১০ বিলিয়ন ডলারের।

কোন ধরনের ফসল বেশি হুমকিতে? সে প্রশ্নের উত্তরে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের এলনিনো মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পাম-তেল চাষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। বিশ্বে এই তেলের মোট চাহিদার ৮৬ ভাগই যোগান দেয় এই দুই দেশ। ১৯৯৭-৯৮ সালের এলনিনোয় ইন্দোনেশিয়ার ৭.১ ভাগ ও মালয়েশিয়ার ৫.৫ ভাগ পামতেল উৎপাদন কমে যায়।

বাংলাদেশ-ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোতে ধান উৎপাদন হুমকিতে রয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসে বৃষ্টিপাত না হলে ধানের ক্ষেতগুলো হয়ে পড়তে পারে শুষ্ক খরখরা। আর ধান উৎপাদন কমলে তা গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। ভারত ও চীনের সয়াবিন উৎপাদনও রয়েছে একই হুমকিতে। বলা হচ্ছে এলনিনোর প্রভাবে ভারতে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চল শুষ্ক হলে সয়াবিন উৎপাদন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই ফসলটি চাষ শুরু হয় জুন-জুলাইয়ে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সয়াবিন উৎপাদনে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়।

অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ-আমিষযুক্ত গম উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবারের এলনিনোতে এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এই ফসলের জন্য সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। কিন্তু এলনিনো সে বৃষ্টি থামিয়ে রাখবে।

অস্ট্রেলিয়া এলনিনোর প্রভাবে খরা হবে সে এমন আশঙ্কা এখন তীব্র। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হয়ে এ পর্যন্ত ২৬ দফায় ছোট্ট বালকটিরে (এলনিনো) দেখেছে বিশ্ব। তার মধ্যে ১৭ বারই তীব্র খরায় পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির আবহাওয়া ব্যুরো এই তথ্য দিয়ে বলছে, পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কৃষকরা গম, বার্লি আর ক্যানোলা চাষে বিপাকে পড়বে।

এলনিনো যুক্তরাষ্ট্রের এবারের গ্রীষ্মকে কিছুটা বেশিই ঠাণ্ডাময় করে রাখবে। পূর্ব প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকছে একের পর এক হারিকেনের আঘাতের আশঙ্কা আর ওদিকে পশ্চিমে আশঙ্কা টাইফুনের।

কত দিন থাকবে এই দশা? সে প্রশ্ন অবশ্যই আসবে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা বলছে, ২০১৫ সালের শেষভাগে এসে কমে আসতে পারে এলনিনো। কিন্তু আশঙ্কার কথা হচ্ছে তিনটি প্রধান আহবাহওয়া বিশ্লেষণ সংস্থার মধ্যে সর্বসম্মত কোনও বক্তব্য নিশ্চিত করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার বলছে, তাদের হিসেবে ৭০ ভাগ সম্ভাবনাই হচ্ছে, উত্তর গোলার্ধের গোট‍া গ্রীষ্মকাল জুড়ে চলবে এলনিনোর প্রভাব। আর অস্ট্রেলিয়ান ওয়েদার ব্যুরো বলছে, এলনিনো একবার এসে গেলে এ বছরের গোটা সময়টা জুড়েই বিরাজ করবে।