পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন Logo নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক

পার্বতীপুরে সবুজ ধানে ভরে উঠেছে আমন ক্ষেত

বাংলার খবর২৪.কম500x350_4446f3cbb49e229046790ae1d115dfe4_Parbatipur_(Dinajpur)_Photo-_8-09-14, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : বন্যায় দেশের অনেক জেলায় আমনের ব্যাপক ক্ষতি হলেও সবুজে ভরে উঠেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় কৃষকের আমন ক্ষেত। পরিমিত বৃষ্টি সতেজ করে তুলেছে আমন চারা। এখন চলছে শুধুই পরিচর্যা। সময়মত ক্ষেতে প্রয়োজনীয় সার আর কিটনাশক দিতে পারায় ভাল ফলনের আশায় বুক বেঁধে আছেন এ উপজেলার কৃষক। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনে লক্ষমাত্রা আতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় এবার ২৭ হাজার ২শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমিতে ভারতীয় গুটি স্বর্ণা ও ৪ হাজার ১৮২ হেক্টর জমিতে ব্রি-৩৪ (সুগন্ধি) সহ ২৬ হাজার ৯৫০ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান এবং কালিজিরা, কাটারি ভোগ ও বেগুন বিচিসহ ২৭৫ হেক্টরে স্থানীয় সুগন্ধি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এবার ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭২০ টন। রোপা আমন ধান বৃষ্টি নির্ভর হলেও বর্তমানে কৃষকরা অধিক ফলনের জন্য চেসনালাবা গভীর নলকুপ দিয়ে সেচ দিয়ে থাকে। তাতে করে কৃষকরা কাংখিত ফলন পাচ্ছে। পরে আকাশের সামান্য বৃষ্টি আর উপরি সেচ প্রয়োগ করে কৃষক আমন লাগানো শেষ করলেও বৃষ্টির অভাবে আমন খেতে পানি সংকট প্রবল হয়ে ওঠে। গত এক মাস ধরে চলা মাঝারি বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পায় কৃষকের আমন ক্ষেত। কৃষক হাতের নাগালে ন্যায্য মূল্যে ইউরিয়া সার পাওয়ায় সবুজে ভরে গেছে আমন ক্ষেত। চন্ডিপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান জানান, তিনি ২০ বিঘা জমিতে স্বর্ণা ও জিরা শাইল ধানের চাষ করেছেন। প্রয়োজনীয় বৃষ্টি ও হাতের নাগালে পাওয়া ইউরিয়া সার সময় মত জমিতে দিতে পারায় সবুজে ভরে গেছে আমন ক্ষেত। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।
মমিনপুর ইউনিয়নের যশাই বাজারের কৃষক মো. নুরুল হক বলেন, তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছেন। আবাদ এবার ভালই হয়েছে। প্রথম দিকে বৃষ্টির অভাব থাকায় উপরি সেচ দিয়ে আমন চারা লাগাতে হয়েছে। এখন ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতের চ্যাহেরা পাল্টে গেছে তার।
চন্ডিপুর ইউনিয়নের সোনালী ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী সার ডিলার আরিফ হোসেন বলেন, গোটা উপজেলায় ১০ জন ডিলার সার সরবরাহের জন্য নিয়োজিত ছিল। এ কারনে কৃষক সময় মত জমিতে সার ও কিটনাশক দিতে পারায় আবাদ ভাল হয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলার পার্বতীপুর বাফার গুদামের ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান বলেন, তার গুদাম থেকে দিনাজপুর ও নীলফারী জেলার ডিলারের কাছে সার সরবরাহ করা হয়। সারের কোন ঘাটতি ছিল না। এখনও তার গুদামে সাড়ে ১৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ আছে।
এব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবির বলেন, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও এক পৌর সভায় বিএডিসির ৭জন ও বিসিআইসি’র ১০ জন ডিলার আছে। খুচরা বিক্রেতা রয়েছে ৫৮জন। হাতের নাগালে পাওয়া প্রয়োজনীয় সার ও কিটনাশক দিতে পারায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন আবাদ ভাল হয়েছে এবং ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন

পার্বতীপুরে সবুজ ধানে ভরে উঠেছে আমন ক্ষেত

আপডেট টাইম : ০৩:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম500x350_4446f3cbb49e229046790ae1d115dfe4_Parbatipur_(Dinajpur)_Photo-_8-09-14, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : বন্যায় দেশের অনেক জেলায় আমনের ব্যাপক ক্ষতি হলেও সবুজে ভরে উঠেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় কৃষকের আমন ক্ষেত। পরিমিত বৃষ্টি সতেজ করে তুলেছে আমন চারা। এখন চলছে শুধুই পরিচর্যা। সময়মত ক্ষেতে প্রয়োজনীয় সার আর কিটনাশক দিতে পারায় ভাল ফলনের আশায় বুক বেঁধে আছেন এ উপজেলার কৃষক। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনে লক্ষমাত্রা আতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় এবার ২৭ হাজার ২শ’ ২৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমিতে ভারতীয় গুটি স্বর্ণা ও ৪ হাজার ১৮২ হেক্টর জমিতে ব্রি-৩৪ (সুগন্ধি) সহ ২৬ হাজার ৯৫০ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান এবং কালিজিরা, কাটারি ভোগ ও বেগুন বিচিসহ ২৭৫ হেক্টরে স্থানীয় সুগন্ধি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এবার ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭২০ টন। রোপা আমন ধান বৃষ্টি নির্ভর হলেও বর্তমানে কৃষকরা অধিক ফলনের জন্য চেসনালাবা গভীর নলকুপ দিয়ে সেচ দিয়ে থাকে। তাতে করে কৃষকরা কাংখিত ফলন পাচ্ছে। পরে আকাশের সামান্য বৃষ্টি আর উপরি সেচ প্রয়োগ করে কৃষক আমন লাগানো শেষ করলেও বৃষ্টির অভাবে আমন খেতে পানি সংকট প্রবল হয়ে ওঠে। গত এক মাস ধরে চলা মাঝারি বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরে পায় কৃষকের আমন ক্ষেত। কৃষক হাতের নাগালে ন্যায্য মূল্যে ইউরিয়া সার পাওয়ায় সবুজে ভরে গেছে আমন ক্ষেত। চন্ডিপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান জানান, তিনি ২০ বিঘা জমিতে স্বর্ণা ও জিরা শাইল ধানের চাষ করেছেন। প্রয়োজনীয় বৃষ্টি ও হাতের নাগালে পাওয়া ইউরিয়া সার সময় মত জমিতে দিতে পারায় সবুজে ভরে গেছে আমন ক্ষেত। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।
মমিনপুর ইউনিয়নের যশাই বাজারের কৃষক মো. নুরুল হক বলেন, তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন লাগিয়েছেন। আবাদ এবার ভালই হয়েছে। প্রথম দিকে বৃষ্টির অভাব থাকায় উপরি সেচ দিয়ে আমন চারা লাগাতে হয়েছে। এখন ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতের চ্যাহেরা পাল্টে গেছে তার।
চন্ডিপুর ইউনিয়নের সোনালী ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী সার ডিলার আরিফ হোসেন বলেন, গোটা উপজেলায় ১০ জন ডিলার সার সরবরাহের জন্য নিয়োজিত ছিল। এ কারনে কৃষক সময় মত জমিতে সার ও কিটনাশক দিতে পারায় আবাদ ভাল হয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলার পার্বতীপুর বাফার গুদামের ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান বলেন, তার গুদাম থেকে দিনাজপুর ও নীলফারী জেলার ডিলারের কাছে সার সরবরাহ করা হয়। সারের কোন ঘাটতি ছিল না। এখনও তার গুদামে সাড়ে ১৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ আছে।
এব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবির বলেন, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও এক পৌর সভায় বিএডিসির ৭জন ও বিসিআইসি’র ১০ জন ডিলার আছে। খুচরা বিক্রেতা রয়েছে ৫৮জন। হাতের নাগালে পাওয়া প্রয়োজনীয় সার ও কিটনাশক দিতে পারায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন আবাদ ভাল হয়েছে এবং ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি জানান।