অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

সেরা করদাতা হলেন- দুর্নীতি মামলার আসামি!

বাংলার খবর২৪.কম:500x350_754e3fe7297e656e16cc2ff3c3706cec_badi সেরা করদাতা নির্বাচিত হলেন দুর্নীতি মামলার আসামি কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি।
সরকারদলীয় আলোচিত এ সংসদ সদস্য কক্সবাজার জেলা থেকে সর্বোচ্চ করদাতার ক্যাটগরিতে সেরা আয়করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। এনবিআর কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার সর্বোচ্চ করদাতার ক্যাটাগরিতে আবদুর রহমান বদির নাম এক নম্বরে রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী বদির ই-টিআইএন নম্বর দেওয়া রয়েছে ৭৭৪৩২৬৯৯৪৭৪১। যার সার্কেল-৮৭ (টেকনাফ), কর অঞ্চল-৪, চট্টগ্রাম, পিতা-মরহুম হাজি এজহার মিয়া, মাতা-মরহুমা মালেকা বানু এবং ঠিকানা-হোটেল নিরিবিলি, ১ নং কক্ষ, চৌধুরীপাড়া, টেকনাফ, কক্সবাজার দেওয়া রয়েছে।
‘জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা-২০১০’ অনুযায়ী ‘কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেরা করদাতা নির্বাচিত হতে পারবেন না। আবার মূল্য সংযোজন কর ফাঁকি বা কর মামলায় জড়িত আছেন, এমন করখেলাপিও সেরা করদাতা নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। আর যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে তারাও এ তালিকায় স্থান পাবেন না।’
কিন্তু প্রায় ১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মহাজোট সরকারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেরা করদাতা হলেন। কীভাবে তিনি সেরা করদাতা হলেন তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহান বাদী হয়ে বদির বিরুদ্ধে একটি মামলা (মামলা নং-৩৭) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি সম্পদ বিবরণীতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোট ৫ কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৮ টাকার সম্পদের হিসাব দুদকে জমা দেন। কিন্তু তার আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে মোট ১৬ কোটি ৬ লাখ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক, যাতে তার গোপন করা সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা।
অন্যদিকে, দুদকে জমা দেওয়া তার সম্পদ বিবরণীর মধ্যেও অনেক গরমিল পেয়েছে কমিশন। তিনি আমদানি ব্যবসার কথা উল্লেখ করলেও ওই ব্যবসায় লাভ-ক্ষতির বিষয় সঠিকভাবে দেখাতে পারেননি। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে একটি জমির দাম এক বছরের ব্যবধানে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখিয়ে গোপন করেছেন প্রায় ২ কোটি টাকা। এতে ৪১ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৫ টাকার একটি জমি ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিক্রি দেখিয়েছেন তিনি। এখানে তিনি ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা গোপন করেছেন বলে প্রমাণ পায় দুদক।

অর্থাৎ তার সম্পদ বিবরণী ও তার আয়কর রিটার্নের পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এনবিআরের করনীতি বিভাগের সদস্য মো. আমিনুল করিম ভূঁইয়া রাইজিংবিডিকে জানান, বিষয়টি তার অধীনে নয়। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নয়।
অন্যদিকে এনবিআরের সদস্য মো. বশির উদ্দিন আহমেদ (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থপনা) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তার (বদির) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে চলতি বছর। আর তিনি সেরা করদাতা হয়েছেন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের। সে হিসাবে ওই বছরের রেকর্ড আমলে নিয়ে এনবিআর সেরা করদাতা নির্বাচিত করেছে। তাই বর্তমানের মামলার বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সেরা করদাতা হলেন- দুর্নীতি মামলার আসামি!

আপডেট টাইম : ০৫:০৮:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম:500x350_754e3fe7297e656e16cc2ff3c3706cec_badi সেরা করদাতা নির্বাচিত হলেন দুর্নীতি মামলার আসামি কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি।
সরকারদলীয় আলোচিত এ সংসদ সদস্য কক্সবাজার জেলা থেকে সর্বোচ্চ করদাতার ক্যাটগরিতে সেরা আয়করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। এনবিআর কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার সর্বোচ্চ করদাতার ক্যাটাগরিতে আবদুর রহমান বদির নাম এক নম্বরে রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী বদির ই-টিআইএন নম্বর দেওয়া রয়েছে ৭৭৪৩২৬৯৯৪৭৪১। যার সার্কেল-৮৭ (টেকনাফ), কর অঞ্চল-৪, চট্টগ্রাম, পিতা-মরহুম হাজি এজহার মিয়া, মাতা-মরহুমা মালেকা বানু এবং ঠিকানা-হোটেল নিরিবিলি, ১ নং কক্ষ, চৌধুরীপাড়া, টেকনাফ, কক্সবাজার দেওয়া রয়েছে।
‘জাতীয় ট্যাক্স কার্ড নীতিমালা-২০১০’ অনুযায়ী ‘কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেরা করদাতা নির্বাচিত হতে পারবেন না। আবার মূল্য সংযোজন কর ফাঁকি বা কর মামলায় জড়িত আছেন, এমন করখেলাপিও সেরা করদাতা নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। আর যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে তারাও এ তালিকায় স্থান পাবেন না।’
কিন্তু প্রায় ১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মহাজোট সরকারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেরা করদাতা হলেন। কীভাবে তিনি সেরা করদাতা হলেন তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহান বাদী হয়ে বদির বিরুদ্ধে একটি মামলা (মামলা নং-৩৭) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি সম্পদ বিবরণীতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোট ৫ কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৮ টাকার সম্পদের হিসাব দুদকে জমা দেন। কিন্তু তার আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে মোট ১৬ কোটি ৬ লাখ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক, যাতে তার গোপন করা সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা।
অন্যদিকে, দুদকে জমা দেওয়া তার সম্পদ বিবরণীর মধ্যেও অনেক গরমিল পেয়েছে কমিশন। তিনি আমদানি ব্যবসার কথা উল্লেখ করলেও ওই ব্যবসায় লাভ-ক্ষতির বিষয় সঠিকভাবে দেখাতে পারেননি। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে একটি জমির দাম এক বছরের ব্যবধানে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখিয়ে গোপন করেছেন প্রায় ২ কোটি টাকা। এতে ৪১ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৫ টাকার একটি জমি ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিক্রি দেখিয়েছেন তিনি। এখানে তিনি ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা গোপন করেছেন বলে প্রমাণ পায় দুদক।

অর্থাৎ তার সম্পদ বিবরণী ও তার আয়কর রিটার্নের পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এনবিআরের করনীতি বিভাগের সদস্য মো. আমিনুল করিম ভূঁইয়া রাইজিংবিডিকে জানান, বিষয়টি তার অধীনে নয়। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নয়।
অন্যদিকে এনবিআরের সদস্য মো. বশির উদ্দিন আহমেদ (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থপনা) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তার (বদির) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে চলতি বছর। আর তিনি সেরা করদাতা হয়েছেন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের। সে হিসাবে ওই বছরের রেকর্ড আমলে নিয়ে এনবিআর সেরা করদাতা নির্বাচিত করেছে। তাই বর্তমানের মামলার বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি।