পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

সিলেট-শায়েস্তাগঞ্জ রেলপথ, একযুগে নিহত ৩০

বাংলার খবর২৪.কম500x350_504845d489fa0fc680199d0262499517_Untitled-1 সিলেট : সিলেট বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত পড়ে আছে রেলক্রসিংগুলো। ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডির রাস্তায় গড়ে উঠা অননুমোদিত ৩৪টি রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গত একযুগে অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সিলেট-আখাউড়া রেললাইনের সিলেট বিভাগের শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান ও গেট না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া সেকশনে প্রতিদিন গড়ে ২০টি ট্রেন যাতায়াত করে। এই রেল পথের অর্ধশতাধিক রেলক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র ১৭টিতে গেটম্যান থাকলেও বাকিগুলো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন লোকজন। এর পাশাপাশি দিব্যি চলছে রিক্সা, ঠেলাগাড়িসহ ভারি ও হালকা যানবাহন। এসব রেলক্রসিংয়ের মধ্যে কিছু কিছু ক্রসিংয়ে রেল বিভাগ সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানালেও সাধারণ মানুষ অবাধে এসব ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করছেন। রেলওয়ে সূত্র জানা যায়, সিলেট থেকে কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রেলক্রসিং রয়েছে। তন্মধ্যে ১৭টির অনুমোদন থাকলেও বাকি প্রায় ৩৪টি ক্রসিংয়ের কোনো অনুমোদন নেই। এর মধ্যে ২৮টি রয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের কাঁচা ও ইট বিছানো (সলিং) রাস্তার ওপর এবং ৬টি ক্রসিং এলজিইডির পাকা রাস্তায়। তবে অনুমোদনপ্রাপ্ত ১৭টি ক্রসিংয়ের ৮টিতে গেটম্যান থাকলেও ৯টি ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেটম্যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া সেকশনের শমশেরনগর মনু স্টেশনের মধ্যবর্তী ই-৯১-সি রেলক্রসিংয়ে ২০০২ সালে ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী মিশুকের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। একইস্থানে আরেকটি দুর্ঘটনায় নিহত হন আরও তিনজন। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও ডাউন পয়েন্টের কাছে ২০০০ সালের মে মাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন যাত্রীবাহী বেবিটেক্সি দুই যাত্রী। ২০০৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুলাউড়া স্কুল চৌমুহনী রেলক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেসের ধাক্কায় কুলাউড়া দমকল বাহিনীর পিকআপ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে নিহত হন দমকল বাহিনীর তিন কর্মী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অনুমোদিত রেলক্রসিংয়ের মধ্যে শ্রীমঙ্গল, শমশেরনগর, শায়েস্তাগঞ্জ, কুলাউড়া, মাইজগাঁও, সিলেট ও মৌলভীবাজারে বেশ কয়েকটি ক্রসিংয়ে গেটম্যান রয়েছে। অন্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে অরক্ষিত। এ বিষয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। তিনি আরও জানান, যেসব ক্রসিং সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার ওপর সেগুলো সুরক্ষিত থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ এবং এলজিইডির রাস্তার ওপর স্থাপিত ক্রসিংগুলোই মূলত ঝুঁকিপূর্ণ। সওজের রাস্তায় ক্রসিংয়ের গেটম্যানসহ যাবতীয় খরচ যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে রেলওয়ে বিভাগ পেয়ে থাকে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডির কোনো বরাদ্দ না থাকায় এসব ক্রসিং এবং গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

সিলেট-শায়েস্তাগঞ্জ রেলপথ, একযুগে নিহত ৩০

আপডেট টাইম : ০২:১৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম500x350_504845d489fa0fc680199d0262499517_Untitled-1 সিলেট : সিলেট বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত পড়ে আছে রেলক্রসিংগুলো। ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডির রাস্তায় গড়ে উঠা অননুমোদিত ৩৪টি রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গত একযুগে অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সিলেট-আখাউড়া রেললাইনের সিলেট বিভাগের শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান ও গেট না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া সেকশনে প্রতিদিন গড়ে ২০টি ট্রেন যাতায়াত করে। এই রেল পথের অর্ধশতাধিক রেলক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র ১৭টিতে গেটম্যান থাকলেও বাকিগুলো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন লোকজন। এর পাশাপাশি দিব্যি চলছে রিক্সা, ঠেলাগাড়িসহ ভারি ও হালকা যানবাহন। এসব রেলক্রসিংয়ের মধ্যে কিছু কিছু ক্রসিংয়ে রেল বিভাগ সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানালেও সাধারণ মানুষ অবাধে এসব ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করছেন। রেলওয়ে সূত্র জানা যায়, সিলেট থেকে কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রেলক্রসিং রয়েছে। তন্মধ্যে ১৭টির অনুমোদন থাকলেও বাকি প্রায় ৩৪টি ক্রসিংয়ের কোনো অনুমোদন নেই। এর মধ্যে ২৮টি রয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের কাঁচা ও ইট বিছানো (সলিং) রাস্তার ওপর এবং ৬টি ক্রসিং এলজিইডির পাকা রাস্তায়। তবে অনুমোদনপ্রাপ্ত ১৭টি ক্রসিংয়ের ৮টিতে গেটম্যান থাকলেও ৯টি ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেটম্যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া সেকশনের শমশেরনগর মনু স্টেশনের মধ্যবর্তী ই-৯১-সি রেলক্রসিংয়ে ২০০২ সালে ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী মিশুকের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। একইস্থানে আরেকটি দুর্ঘটনায় নিহত হন আরও তিনজন। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও ডাউন পয়েন্টের কাছে ২০০০ সালের মে মাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন যাত্রীবাহী বেবিটেক্সি দুই যাত্রী। ২০০৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুলাউড়া স্কুল চৌমুহনী রেলক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেসের ধাক্কায় কুলাউড়া দমকল বাহিনীর পিকআপ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে নিহত হন দমকল বাহিনীর তিন কর্মী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অনুমোদিত রেলক্রসিংয়ের মধ্যে শ্রীমঙ্গল, শমশেরনগর, শায়েস্তাগঞ্জ, কুলাউড়া, মাইজগাঁও, সিলেট ও মৌলভীবাজারে বেশ কয়েকটি ক্রসিংয়ে গেটম্যান রয়েছে। অন্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে অরক্ষিত। এ বিষয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। তিনি আরও জানান, যেসব ক্রসিং সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার ওপর সেগুলো সুরক্ষিত থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ এবং এলজিইডির রাস্তার ওপর স্থাপিত ক্রসিংগুলোই মূলত ঝুঁকিপূর্ণ। সওজের রাস্তায় ক্রসিংয়ের গেটম্যানসহ যাবতীয় খরচ যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে রেলওয়ে বিভাগ পেয়ে থাকে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডির কোনো বরাদ্দ না থাকায় এসব ক্রসিং এবং গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।