অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন Logo নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক

ফিটনেস বেসরকারিতে ছেড়ে দিলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি

ফারুক সুজনঃ পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিআরটিএর জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বদনাম ঘোচানোর জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। এতে অনিয়ম পুরোপুরি দূর করা যাচ্ছে না। কারণ বিআরটিএর জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ক্ষেত্রবিশেষে জিম্মি হয়ে পড়তে হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সংস্থার নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বিআরটিএর বিদ্যমান ৮২৩টি পদের বিপরীতে ১১৭টি পদ শূন্য। অর্থাৎ ৭০৬টি পদে জনবল রয়েছে। এর বিপরীতে ৪১ লাখেরও বেশি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে। অথচ মোটরযান পরিদর্শনের সংখ্যা
মাত্র ১২৫। এসব গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল দায়িত্বে বিআরটিএ। তা ছাড়া গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ,যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, শৃঙ্খলা ফেরানোসহ অন্তত ১৯ ধরনের কাজ করতে হয় এ সংস্থাকে। সড়ক পরিবহনের শৃঙ্খলা বিষয়ে গতকাল বুয়েটে একটি সেমিনার হয়। সেখানে বিআরটিএ এর জনবল সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের সামনেই বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিআরটিএর দায়িত্ব অনেক। কিন্তু তা দেখার মতো লোকবল নেই। ৪১ লাখ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে অথচ মোটরযান পরিদর্শক মাত্র ১২৫। এটি অন্তত হাজার-বারশো করা উচিত। বুয়েটের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম বলেন, কেবল দায়িত্ব দিলেই হবে না। প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে গঠিত কমিটির ১১১ সুপারিশেও জোর দেওয়া হয়েছে সক্ষমতার বিষয়ে। সেখানেও বলা হয় স্বল্প মেয়াদে প্রস্তাবিত ৩৫৮৭ জনবলের প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদন হওয়া দরকার। তা ছাড়া প্রতিটি জেলা সার্কেল অফিসে জনবল ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জনবলের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা চলছে। এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে একাধিকবার।
দেখা গেছে, ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বিআরটিএর রেজিস্টার্ড গাড়ির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার। ওই সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার। এখন গাড়ির সংখ্যা ৪১ লাখ ৬ হাজার ৯৩৪। আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩৮-এ। সড়ক দুর্ঘটনারোধ, গণপরিবহনে ভাড়া নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের অভিযোগ যাচাই করাসহ নানাবিধ কাজ রয়েছে সংস্থাটির।
তবে কোনোটাই পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করতে পারছে না সংস্থাটি। অথচ বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা। রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও রয়েছে ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্যক্রম। এসব খাত থেকে ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে বিআরটিএর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। এ সময়ের রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৮০৬৭.৭০ শতাংশ। তার মানে কাজ এবং রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়লেও সে তুলনায় জনবল বাড়েনি। এতে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকট রয়েছে সদর কার্যালয়েও। পরিচালকের (এনফোর্সমেন্ট) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য দীর্ঘদিন ধরে। অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। খালি রয়েছে বিআরটিএ সচিবের পদও। আছে উপপরিচালকের বেশ কয়েকটি পদ শূন্য। সংস্থার ৫৭টি সার্কেল অফিস থাকলেও জনবল নেই। এক অফিসের কর্মকর্তা আরেক অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। নিয়মিত দায়িত্বের বাইরেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, যানবাহনে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, মালিক-শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়াসহ অনেক কাজেই জড়িত বিআরটিএ।
সে তুলনায় লোকবল কম হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। এর সমাধানে ফিটনেস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা আসে। কিন্তু এতেও খুব একটা লাভ হবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। দেখা গেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিনির্ভরশীলতায় সরকারি সংস্থার অসহায়ত্ব সামনে চলে আসে। বরং সার্কেল অফিসগুলোয় পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং তাদের কাজে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবার মান বাড়তে পারে। ফলে কমতে পারে অনিয়মের সুযোগ।

সূএঃ আমাদের সময়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন

ফিটনেস বেসরকারিতে ছেড়ে দিলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি

আপডেট টাইম : ০২:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফারুক সুজনঃ পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিআরটিএর জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বদনাম ঘোচানোর জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। এতে অনিয়ম পুরোপুরি দূর করা যাচ্ছে না। কারণ বিআরটিএর জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ক্ষেত্রবিশেষে জিম্মি হয়ে পড়তে হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সংস্থার নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বিআরটিএর বিদ্যমান ৮২৩টি পদের বিপরীতে ১১৭টি পদ শূন্য। অর্থাৎ ৭০৬টি পদে জনবল রয়েছে। এর বিপরীতে ৪১ লাখেরও বেশি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে। অথচ মোটরযান পরিদর্শনের সংখ্যা
মাত্র ১২৫। এসব গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল দায়িত্বে বিআরটিএ। তা ছাড়া গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ,যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, শৃঙ্খলা ফেরানোসহ অন্তত ১৯ ধরনের কাজ করতে হয় এ সংস্থাকে। সড়ক পরিবহনের শৃঙ্খলা বিষয়ে গতকাল বুয়েটে একটি সেমিনার হয়। সেখানে বিআরটিএ এর জনবল সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের সামনেই বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিআরটিএর দায়িত্ব অনেক। কিন্তু তা দেখার মতো লোকবল নেই। ৪১ লাখ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে অথচ মোটরযান পরিদর্শক মাত্র ১২৫। এটি অন্তত হাজার-বারশো করা উচিত। বুয়েটের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম বলেন, কেবল দায়িত্ব দিলেই হবে না। প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে গঠিত কমিটির ১১১ সুপারিশেও জোর দেওয়া হয়েছে সক্ষমতার বিষয়ে। সেখানেও বলা হয় স্বল্প মেয়াদে প্রস্তাবিত ৩৫৮৭ জনবলের প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদন হওয়া দরকার। তা ছাড়া প্রতিটি জেলা সার্কেল অফিসে জনবল ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জনবলের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা চলছে। এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে একাধিকবার।
দেখা গেছে, ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বিআরটিএর রেজিস্টার্ড গাড়ির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার। ওই সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার। এখন গাড়ির সংখ্যা ৪১ লাখ ৬ হাজার ৯৩৪। আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩৮-এ। সড়ক দুর্ঘটনারোধ, গণপরিবহনে ভাড়া নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের অভিযোগ যাচাই করাসহ নানাবিধ কাজ রয়েছে সংস্থাটির।
তবে কোনোটাই পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করতে পারছে না সংস্থাটি। অথচ বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা। রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও রয়েছে ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্যক্রম। এসব খাত থেকে ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে বিআরটিএর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। এ সময়ের রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৮০৬৭.৭০ শতাংশ। তার মানে কাজ এবং রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়লেও সে তুলনায় জনবল বাড়েনি। এতে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকট রয়েছে সদর কার্যালয়েও। পরিচালকের (এনফোর্সমেন্ট) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য দীর্ঘদিন ধরে। অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। খালি রয়েছে বিআরটিএ সচিবের পদও। আছে উপপরিচালকের বেশ কয়েকটি পদ শূন্য। সংস্থার ৫৭টি সার্কেল অফিস থাকলেও জনবল নেই। এক অফিসের কর্মকর্তা আরেক অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। নিয়মিত দায়িত্বের বাইরেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, যানবাহনে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, মালিক-শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়াসহ অনেক কাজেই জড়িত বিআরটিএ।
সে তুলনায় লোকবল কম হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। এর সমাধানে ফিটনেস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা আসে। কিন্তু এতেও খুব একটা লাভ হবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। দেখা গেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিনির্ভরশীলতায় সরকারি সংস্থার অসহায়ত্ব সামনে চলে আসে। বরং সার্কেল অফিসগুলোয় পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং তাদের কাজে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবার মান বাড়তে পারে। ফলে কমতে পারে অনিয়মের সুযোগ।

সূএঃ আমাদের সময়।