অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন Logo নীলফামারীতে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫, আইসিইউতে ১ জনের মৃত্যু Logo পাটগ্রাম সীমান্তে পথভ্রষ্ট কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর Logo মিরপুর বিআরটিএ-তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদন্ড। Logo বিআরটিএ সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি ৭ জনের Logo শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা Logo পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গরু ও আগরবাতি আটক Logo পাটগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে যুগের আলো পত্রিকার ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo জলসিড়ি আবাসনের সাথে রূপগঞ্জের জমি মালিকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন এমপি দিপু ভুঁইয়া Logo হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোটরসাইকেল পার্টস আটক

করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডাক বিভাগের ডিজি, বরখাস্ত চেয়ে আইনি নোটিশ

ডেস্ক : ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্রকে (এস এস ভদ্র) চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। করোনাভাইরাস টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পরও গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি অবস্থান করায় এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

আজ শনিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার এ নোটিশ পাঠান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআর’র পরিচালককে ইমেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তদন্ত কমিটি গঠন করে ওই ঘটনার তদন্ত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিবাদীদের ওই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট, ডাটা কার্ড উম্মোচনের উদ্বোধনী কাজে গণভবনে যান সুধাংশু শেখর ভদ্র। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনেক কাছাকাছি অবস্থান করেন। কিন্তু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৬ ধারা অনুযায়ী তার কর্মকাণ্ড একটি অপরাধ এবং ওই আইন অনুযায়ী তিনি তার তথ্য গোপন করেছেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এতে আরও বলা হয়, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১২ আগস্ট আইইডিসিআর করোনা পরীক্ষার জন্য এসএস ভদ্রের নমুনা সংগ্রহ করে এবং ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় ওই রিপোর্ট তাকে প্রদান করে। যে রিপোর্ট অনুযায়ী তার করোনা পজিটিভ ছিল। কিন্তু ওই রিপোর্টের তথ্য গোপন করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। যা বেআইনি শুধু নয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি বহন করে।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু আগস্ট মাস একটি শোকের মাস এই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন বর্বরতম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করবার জন্য বারবার স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এই আগস্ট মাসকে বেছে নিয়ে থাকে। এমন একটি পরিস্থিতিতে একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে দেশবাসীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন, সেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ।’

‘বিষয়টির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় উল্লেখ করে এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করার জন্য এবং এসএস ভদ্রকে ২০১৮ সালের আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ করা হলো। একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে তার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য অনুরোধ করা হলো। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়ে কোন কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন

করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডাক বিভাগের ডিজি, বরখাস্ত চেয়ে আইনি নোটিশ

আপডেট টাইম : ০৫:১২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২০

ডেস্ক : ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্রকে (এস এস ভদ্র) চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। করোনাভাইরাস টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পরও গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি অবস্থান করায় এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

আজ শনিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার এ নোটিশ পাঠান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআর’র পরিচালককে ইমেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তদন্ত কমিটি গঠন করে ওই ঘটনার তদন্ত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিবাদীদের ওই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট, ডাটা কার্ড উম্মোচনের উদ্বোধনী কাজে গণভবনে যান সুধাংশু শেখর ভদ্র। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনেক কাছাকাছি অবস্থান করেন। কিন্তু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৬ ধারা অনুযায়ী তার কর্মকাণ্ড একটি অপরাধ এবং ওই আইন অনুযায়ী তিনি তার তথ্য গোপন করেছেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এতে আরও বলা হয়, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১২ আগস্ট আইইডিসিআর করোনা পরীক্ষার জন্য এসএস ভদ্রের নমুনা সংগ্রহ করে এবং ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় ওই রিপোর্ট তাকে প্রদান করে। যে রিপোর্ট অনুযায়ী তার করোনা পজিটিভ ছিল। কিন্তু ওই রিপোর্টের তথ্য গোপন করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। যা বেআইনি শুধু নয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি বহন করে।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু আগস্ট মাস একটি শোকের মাস এই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন বর্বরতম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করবার জন্য বারবার স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এই আগস্ট মাসকে বেছে নিয়ে থাকে। এমন একটি পরিস্থিতিতে একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে দেশবাসীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন, সেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ।’

‘বিষয়টির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় উল্লেখ করে এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করার জন্য এবং এসএস ভদ্রকে ২০১৮ সালের আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ করা হলো। একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে তার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য অনুরোধ করা হলো। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়ে কোন কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের জন্য অনুরোধ করা হলো।’