পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বগুড়ায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন ছাতা কারিগররা

(বগুড়া) প্রতিনিধি:
সারাবছর তেমন একটা কাজ থাকে না ছাতা কারিগরদের। তবে বর্ষা যেন তাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কারণ, বর্ষা এলেই কদর বাড়ে তাঁদের। আর গেল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বগুড়ায় ছাতা কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া শহরের কাঁঠালতলা ফুটপাতে ছাতা মেরামতে ব্যস্ত ছিলেন জহুরুল ইসলাম। দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে তিনি এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। কাজের ফাঁকে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মোটামুটি এখন কাজ হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে ছাতা মেরামতের কাজ একটু বেশি হয়। তবে অন্য সময় তেমন একটা কাজ থাকে না। আয় রোজগার কেমন হয় জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ছাতার কাপড়, হাতল, স্প্রিং প্রভূতি জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। সরবরাহ রয়েছে অনেক কম। তারপরেও প্রতিদিন ২০থেকে ২৫টি ছাতা মেরামত করে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। ছাতাপট্রির গলিতে বসা ছাতা কারিগর লয়া মিয়া বলেন, এখন কিছু কাজ আছে। তবে অন্য সময় বসেই থাকতে হয়। আরেক ছাতা কারিগর চেরু মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে ছাতা মেরামতের মোটামুটি কাজকর্ম হয়। তবে বছরের অন্য দিনগুলোতে সেরকম কাজ হয় না। এ সময়টাতে আমাদের কাজের চাপ বেড়ে যায় বহুগুণ। ভ্রাম্যমাণ ছাতা কারিগর মনির হোসেন বলেন, বছরের অন্যান মৌসুমে তেমন কোন কাজ থাকেনা। শুধু মাত্র বর্ষার অপেক্ষায় থাকি। বর্ষা এলেই বাড়ি থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি ছাতা মেরামতের জন্য। আর বর্ষা এলেই আমাদের আয়ও বহুগুণে বেড়ে যায়। ছাতা মেরামত করাতে আসা সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, চারটি ছাতা নষ্ট হয়ে ঘরে পড়েছিল। বৃষ্টির সময় ছাতার দরকার হয়। তাই ঠিক করতে এসেছি। শহরের নাটাইপাড়া থেকে ছাতা মেরামত করতে আসা আব্দুর রহিম বলেন, একটি ভালো ছাতা ক্রয় করতে ২৫০-৫০০ টাকা প্রয়োজন। এর চেয়ে পুরোনো ছাতাটি মেরামত করে নিলেই চলে। এখনকার যে ছাতা, সবে মাত্র দুইমাস হল ছাতাটা কিনেছি, এখনই মেরামত করতে আসা লাগল। পাশেই কয়েকটি পুরোনো ছাতা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিলন হোসেন নামে এক ব্যক্তি। একসঙ্গে এতোগুলো পুরান ছাতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃষ্টির দিনে ছাতা ঠিক না থাকলে নিজেদের স্বাভাবিক কাজ করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এছাড়া ছেলে মেয়েদের স্কুল-কলেজ ও কোচিংয়ে যেতেও বৃষ্টির মধ্যে ছাতার প্রয়োজন হয়। বাসায় কয়েকটি ছাতা নষ্ট হয়ে পড়ে ছিল, আজ সময় পেলাম তাই এগুলো মেরামত করতে নিয়ে এসেছি।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বগুড়ায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন ছাতা কারিগররা

আপডেট টাইম : ১০:৫৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০২৪

(বগুড়া) প্রতিনিধি:
সারাবছর তেমন একটা কাজ থাকে না ছাতা কারিগরদের। তবে বর্ষা যেন তাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কারণ, বর্ষা এলেই কদর বাড়ে তাঁদের। আর গেল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বগুড়ায় ছাতা কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া শহরের কাঁঠালতলা ফুটপাতে ছাতা মেরামতে ব্যস্ত ছিলেন জহুরুল ইসলাম। দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে তিনি এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। কাজের ফাঁকে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মোটামুটি এখন কাজ হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে ছাতা মেরামতের কাজ একটু বেশি হয়। তবে অন্য সময় তেমন একটা কাজ থাকে না। আয় রোজগার কেমন হয় জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ছাতার কাপড়, হাতল, স্প্রিং প্রভূতি জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। সরবরাহ রয়েছে অনেক কম। তারপরেও প্রতিদিন ২০থেকে ২৫টি ছাতা মেরামত করে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। ছাতাপট্রির গলিতে বসা ছাতা কারিগর লয়া মিয়া বলেন, এখন কিছু কাজ আছে। তবে অন্য সময় বসেই থাকতে হয়। আরেক ছাতা কারিগর চেরু মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে ছাতা মেরামতের মোটামুটি কাজকর্ম হয়। তবে বছরের অন্য দিনগুলোতে সেরকম কাজ হয় না। এ সময়টাতে আমাদের কাজের চাপ বেড়ে যায় বহুগুণ। ভ্রাম্যমাণ ছাতা কারিগর মনির হোসেন বলেন, বছরের অন্যান মৌসুমে তেমন কোন কাজ থাকেনা। শুধু মাত্র বর্ষার অপেক্ষায় থাকি। বর্ষা এলেই বাড়ি থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ি ছাতা মেরামতের জন্য। আর বর্ষা এলেই আমাদের আয়ও বহুগুণে বেড়ে যায়। ছাতা মেরামত করাতে আসা সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, চারটি ছাতা নষ্ট হয়ে ঘরে পড়েছিল। বৃষ্টির সময় ছাতার দরকার হয়। তাই ঠিক করতে এসেছি। শহরের নাটাইপাড়া থেকে ছাতা মেরামত করতে আসা আব্দুর রহিম বলেন, একটি ভালো ছাতা ক্রয় করতে ২৫০-৫০০ টাকা প্রয়োজন। এর চেয়ে পুরোনো ছাতাটি মেরামত করে নিলেই চলে। এখনকার যে ছাতা, সবে মাত্র দুইমাস হল ছাতাটা কিনেছি, এখনই মেরামত করতে আসা লাগল। পাশেই কয়েকটি পুরোনো ছাতা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিলন হোসেন নামে এক ব্যক্তি। একসঙ্গে এতোগুলো পুরান ছাতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃষ্টির দিনে ছাতা ঠিক না থাকলে নিজেদের স্বাভাবিক কাজ করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এছাড়া ছেলে মেয়েদের স্কুল-কলেজ ও কোচিংয়ে যেতেও বৃষ্টির মধ্যে ছাতার প্রয়োজন হয়। বাসায় কয়েকটি ছাতা নষ্ট হয়ে পড়ে ছিল, আজ সময় পেলাম তাই এগুলো মেরামত করতে নিয়ে এসেছি।