পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমঞ্চে স্থাপিত ম্যুরাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
লালমনিরহাট শিশু পার্ক-সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমঞ্চে স্থাপিত ম্যুরাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ায় প্রতিবাদ করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে সনাকের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে গেলে কাপড় দিয়ে ম্যুরালটি ঢেকে রাখার বিষয়টি চোখে পড়ে। নেতারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিরে যান। পরে লালমনিরহাট রেলওয়ে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন তারা।

এর আগেও গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসেও এ কাজ করে জেলা প্রশাসন। দ্বিতীয়বারের মতো এ ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন সংগঠনটির নেতারা।

দীর্ঘ ওই ম্যুরালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলের ৭ মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকার গঠন, চরমপত্র পাঠ, উদিত সূর্য, ৭১-এর গণহত্যা, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, বিজয়ে উল্লাসে মুক্তিযোদ্ধারা, পতাকা হাতে হাতে বিজয়ে উচ্ছ্বসিত জনতা, ৭ বীরশ্রেষ্ঠ ও পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) লালমনিরহাট শাখার সহসভাপতি ও লালমনিরহাট উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক সুপেন্দ্রনাথ দত্ত এ বিষয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানে আমরা এ দেশ পেয়েছি। তাদের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন ঢেকে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে- এ অবদান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুফী মোহাম্মদ বলেন, স্মৃতিস্মারকটি চলমান সময়ের জন্য অনুপযুক্ত হলে ভেঙে দেওয়া হোক। সারা বছর ম্যুরালটি সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে বিশেষ বিশেষ দিনে কাপড় দিয়ে ঢেকে সার্কাস না করাই ভালো।

সনাকের জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম (বীরপ্রতীক) জানান, ওই ম্যুরালে বায়ান্ন থেকে ‘৭১ পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। কাপড় দিয়ে তা ঢেকে রাখার ঘটনা আমাকে ব্যথিত করেছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না।

জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমঞ্চে স্থাপিত ম্যুরাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো

আপডেট টাইম : ০৬:২২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
লালমনিরহাট শিশু পার্ক-সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমঞ্চে স্থাপিত ম্যুরাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ায় প্রতিবাদ করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে সনাকের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে গেলে কাপড় দিয়ে ম্যুরালটি ঢেকে রাখার বিষয়টি চোখে পড়ে। নেতারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিরে যান। পরে লালমনিরহাট রেলওয়ে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন তারা।

এর আগেও গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসেও এ কাজ করে জেলা প্রশাসন। দ্বিতীয়বারের মতো এ ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন সংগঠনটির নেতারা।

দীর্ঘ ওই ম্যুরালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলের ৭ মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকার গঠন, চরমপত্র পাঠ, উদিত সূর্য, ৭১-এর গণহত্যা, মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, বিজয়ে উল্লাসে মুক্তিযোদ্ধারা, পতাকা হাতে হাতে বিজয়ে উচ্ছ্বসিত জনতা, ৭ বীরশ্রেষ্ঠ ও পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) লালমনিরহাট শাখার সহসভাপতি ও লালমনিরহাট উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক সুপেন্দ্রনাথ দত্ত এ বিষয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানে আমরা এ দেশ পেয়েছি। তাদের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন ঢেকে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে- এ অবদান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুফী মোহাম্মদ বলেন, স্মৃতিস্মারকটি চলমান সময়ের জন্য অনুপযুক্ত হলে ভেঙে দেওয়া হোক। সারা বছর ম্যুরালটি সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে বিশেষ বিশেষ দিনে কাপড় দিয়ে ঢেকে সার্কাস না করাই ভালো।

সনাকের জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম (বীরপ্রতীক) জানান, ওই ম্যুরালে বায়ান্ন থেকে ‘৭১ পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। কাপড় দিয়ে তা ঢেকে রাখার ঘটনা আমাকে ব্যথিত করেছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না।

জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি