অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণা

বাংলার খবর২৪.কম:ঢাকা: ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে সতর্ক ও বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আতিউর রহমান এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন

মূল্যস্ফীতির উর্ধ্বমুখী চাপ থাকায় নতুন মুদ্রানীতিতে মুদ্রা সরবরাহ ও ঋণ প্রবাহের প্রাক্কলনে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতি নির্ধারণী সুদহার ( রেপো, রিভার্স রেপো) অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে বিনিয়োগের অনেক বেশি চাহিদা তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিতে নমনীয় পরিবর্তন আনবে ।

এদিকে বাজেটে সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে প্রবৃদ্ধি এর চেয়ে কম হবে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, নুতন মুদ্রানীতি মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজারে স্বস্তিকর স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।

শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আতিউর রহমান চলতি অর্থবছরের প্রধমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

শুরুতেই তিনি বলেন, ‘এবারের মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের কোনো সারপ্রাইজ নেই। মুদ্রানীতির ভঙ্গি আগের বারের মতোই সতর্ক ও বিনিয়োগবান্ধব। অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরি হলে বর্তমানের তুলনায় ঋণ জোগান বাড়ানো হবে।’

মুদ্রনীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী, ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরী ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাসান জামান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ৬ মাস অন্তর আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি প্রাক্কলন তুলে ধরা হয়। এবারের মুদ্রানীতিতে বিদেশি উৎসসহ আগামী ডিসেম্বরের বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধির কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎসের ১৪ শতাংশ। বাকী আড়াই শতাংশ আসবে বিদেশি উৎস থেকে। বিগত মুদ্রানীতিতে অভ্যন্তরীণ উৎসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিলো ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর বাইরে বিদেশি উৎসের ঋণের কারণে বেসরকারি খাতে ৩ শতাংশের মতো ঋণ প্রবৃদ্ধির যোগ হয়েছে। এছাড়া এবারের মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ডিসেম্বর নাগাদ ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারিণ করা হয়েছে ১৬ শতাংশ এবং মুদ্রার মজুত ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় এসব লক্ষ্যমাত্রা কম বেশি করা হবে। এছাড়া জনশক্তি রফতানি বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করা সম্ভব হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণা

আপডেট টাইম : ০৭:৫৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০১৪

বাংলার খবর২৪.কম:ঢাকা: ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে সতর্ক ও বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আতিউর রহমান এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন

মূল্যস্ফীতির উর্ধ্বমুখী চাপ থাকায় নতুন মুদ্রানীতিতে মুদ্রা সরবরাহ ও ঋণ প্রবাহের প্রাক্কলনে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতি নির্ধারণী সুদহার ( রেপো, রিভার্স রেপো) অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে বিনিয়োগের অনেক বেশি চাহিদা তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিতে নমনীয় পরিবর্তন আনবে ।

এদিকে বাজেটে সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে প্রবৃদ্ধি এর চেয়ে কম হবে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, নুতন মুদ্রানীতি মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজারে স্বস্তিকর স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।

শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আতিউর রহমান চলতি অর্থবছরের প্রধমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

শুরুতেই তিনি বলেন, ‘এবারের মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের কোনো সারপ্রাইজ নেই। মুদ্রানীতির ভঙ্গি আগের বারের মতোই সতর্ক ও বিনিয়োগবান্ধব। অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরি হলে বর্তমানের তুলনায় ঋণ জোগান বাড়ানো হবে।’

মুদ্রনীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী, ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরী ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাসান জামান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ৬ মাস অন্তর আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি প্রাক্কলন তুলে ধরা হয়। এবারের মুদ্রানীতিতে বিদেশি উৎসসহ আগামী ডিসেম্বরের বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধির কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎসের ১৪ শতাংশ। বাকী আড়াই শতাংশ আসবে বিদেশি উৎস থেকে। বিগত মুদ্রানীতিতে অভ্যন্তরীণ উৎসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিলো ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর বাইরে বিদেশি উৎসের ঋণের কারণে বেসরকারি খাতে ৩ শতাংশের মতো ঋণ প্রবৃদ্ধির যোগ হয়েছে। এছাড়া এবারের মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ডিসেম্বর নাগাদ ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারিণ করা হয়েছে ১৬ শতাংশ এবং মুদ্রার মজুত ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় এসব লক্ষ্যমাত্রা কম বেশি করা হবে। এছাড়া জনশক্তি রফতানি বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করা সম্ভব হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে।